প্রতীকী ছবি
সোনা এমনই একটি ধাতু, যা ঘিরে মানুষের আগ্রহ সর্বদাই তুঙ্গে থাকে। গয়না হোক বা বিনিয়োগ, সোনা অতি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সোনার দাম মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র এক বছরে ৫৫ থেকে ৬৫ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে সোনা। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিও প্রচুর পরিমাণে সোনা কিনেছে। নীরবে দ্রুতগতিতে সোনা মজুত করবে ব্যাঙ্কগুলি। কিন্তু কেন?
২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সম্মিলিত ভাবে প্রায় ৯০০ টন সোনা কিনবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যা টানা চতুর্থ বছর ধরে গড়ে চেয়ে বেশি। এটি কার্যত নজিরবিহীন। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক গোল্ড রিজার্ভ সার্ভে ২০২৫ একটি আশ্চর্যজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। ৭৬% কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ৫ বছর পর সোনা আরও বেশি পরিমাণে মজুত করতে আশাবাগী।
এদিকে, মার্কিন ডলার আগামীদেন পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি ডলারের অবমূল্যায়ন ধরে তাদের সোনা ক্রয় বৃদ্ধি করছে। প্রশ্ন উঠছে, ডলারের আধিপত্য হ্রাস পেলে সোনা কি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়বে?
কেন সোনার প্রতি আস্থা বাড়ছে?
ইন্ডিয়া টুডে-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে ২%-এরও কম হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশগুলি নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছে। এদিকে, ডলারের পতন আসন্ন হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সুনির্দিষ্ট সমাধান খুঁজছে।
সোনা মুদ্রাস্ফীতির জেরে প্রাভাবিত হতে পারে না কিংবা কোনও প্রতিকূলতাতেও স্থির থাকে না। এর কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনার ভাণ্ডার বৃদ্ধি করছে।
কেন এত দ্রুত সোনা কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক?
ইকনমিক্স রেটিংসের মুখ্য অর্থনীতিবিদ মনোরঞ্জন শর্মা বলেন, 'সোনা ধরে রাখলে নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। নীতিহত আস্থা বৃদ্ধি পায়, আর্থিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক ব্যবস্থায় স্বাধীন নীতির জন্য নমনীয়তা প্রদান করা হয়।'
বিগত কয়েক বছর ধরেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সোনার ক্রয় বাড়িয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০২৫ সালের জুন মাসে আধা টন সোনা কিনেছে। সোনাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সোনাকে সর্বদা একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, অর্থাৎ এমন একটি উৎস যা বিপদের সময়ে কাজে আসে। সাধারণ মানুষ যেমন সোনা কিনে সঙ্কটের সময়ে নিজেদের নিরাপদ রাখে, তেমনই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিও সোনার রিজার্ভ বৃদ্ধি করছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ডলারের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তার সোনার রিজার্ভ বৃদ্ধি করছে।