
দেশে সাইবার জালিয়াতির কৌশল দিন দিন আরও কুটিল হয়ে উঠছে। ভুয়ো লিঙ্ক বা সন্দেহজনক অ্যাপের ফাঁদ পেরিয়ে এবার প্রতারকরা নিশানা করেছে স্মার্টফোনের একেবারে সাধারণ একটি ফিচারকে। আর তাতেই বিপাকে পড়ছেন অসংখ্য সাধারণ ব্যবহারকারী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ভারতীয় সাইবার ক্রাইম সমন্বয় কেন্দ্র (I4C) সম্প্রতি এই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করেছে। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, সাইবার অপরাধীরা এখন কল ফরোয়ার্ডিং ফিচারকে হাতিয়ার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
কীভাবে চলছে এই নতুন প্রতারণা?
এই জালিয়াতির শুরুটা একেবারেই সাধারণ ভাবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা কুরিয়ার সংস্থা বা ডেলিভারি এজেন্ট সেজে ফোন করেন। বলা হয়, আপনার নামে একটি পার্সেল এসেছে বা ডেলিভারিতে কোনও সমস্যা হয়েছে। কথাবার্তাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে একটি এসএমএসও পাঠানো হয়।
সেই বার্তায় বলা থাকে, সমস্যার সমাধানের জন্য একটি USSD কোড ডায়াল করতে হবে। কোডগুলি সাধারণত *21#, *61# বা *67# দিয়ে শুরু হয়। ব্যবহারকারী সন্দেহ না করে কোডটি ডায়াল করলেই বিপদ।
কোথায় ফাঁদ?
এই কোড ডায়াল করার সঙ্গে সঙ্গেই ফোনে কল ফরোয়ার্ডিং চালু হয়ে যায়। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীর ফোনে আসা সমস্ত কল অন্য একটি নম্বরে চলে যেতে থাকে, যেটি আসলে প্রতারকের।
এরপর ব্যাংক থেকে আসা যাচাইকরণ কল, ওটিপি, সতর্কতামূলক বার্তা, সবই পৌঁছে যায় প্রতারকের হাতে। ব্যবহারকারী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই টের পান তখনই, যখন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যায়।
কেন এই প্রতারণা আরও বিপজ্জনক?
I4C জানিয়েছে, এই জালিয়াতির জন্য কোনও লিঙ্কে ক্লিক করা বা অ্যাপ ইনস্টল করার দরকারই নেই। শুধুমাত্র একটি কোড ডায়াল করলেই সর্বনাশ। কল ফরোয়ার্ডিং যেহেতু ফোনের একটি বৈধ ও পরিচিত ফিচার, তাই অনেকেই এটিকে সন্দেহজনক মনে করেন না। আর সেখানেই সুযোগ নিচ্ছে প্রতারকরা।
কী করবেন সন্দেহ হলে?
যদি মনে হয় আপনার ফোনে অজান্তেই কল ফরোয়ার্ডিং চালু হয়ে গেছে, তাহলে অবিলম্বে ##002# ডায়াল করুন। এই কোডটি সমস্ত ধরনের কল ফরোয়ার্ডিং বন্ধ করে দেবে এবং কল আবার সরাসরি আপনার ফোনেই আসবে।
সচেতন থাকাই আসল সুরক্ষা
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সাইবার অপরাধ আর শুধু প্রযুক্তির লড়াই নয়, এটি সচেতনতার লড়াই। অজানা ফোন, সন্দেহজনক ডেলিভারি মেসেজ বা যাচাই না করা কোনও USSD কোড ডায়াল করা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।