কিপ্যাড-নস্টালজিয়াকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চাইছে একটি ব্র্যান্ড। Clicks Communicator: এক সময় ছিল, যখন ব্ল্যাকবেরি মানেই একটা আলাদা ব্যাপার ছিল। এই ফোন থাকা মানেই স্ট্যাটাস। কিপ্যাড। ছোট স্ক্রিন। ইমেল পাঠানো যাবে। একের পর এক মডেল হিট। অনেকেরই স্বপ্ন ছিল, একদিন ব্ল্যাকবেরি কিনবেন। কিন্তু সময় বদলেছে। অ্যান্ড্রয়েড আর আইফোনের দাপটে ধীরে ধীরে বাজার থেকে হারিয়ে যায় ব্ল্যাকবেরি। তবে সেই কিপ্যাড-নস্টালজিয়াকেই নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চাইছে একটি ব্র্যান্ড। নাম ক্লিকস। ব্ল্যাকবেরির মতো ডিজাইন। আবার আইফোনের মতো আধুনিক ফিচার। এই কম্বিনেশনেই বাজারে এল ক্লিকস কমিউনিকেটর।
ক্লিকস মূলত স্মার্টফোনের জন্য কিবোর্ড কেস তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছিল। বিশেষ করে আইফোন ও ফ্লিপ ফোনের জন্য তাদের কিবোর্ড কেস বেশ জনপ্রিয়। সেই অভিজ্ঞতাকেই এবার পুরো ফোনে নিয়ে এল সংস্থা। এটিই তাদের প্রথম স্মার্টফোন।
ক্লিকস কমিউনিকেটর আদতে একটি কিবোর্ড ফোন। এক সময়ের জনপ্রিয় সেই হার্ডওয়্যার কিপ্যাডই এই ফোনের মূল আকর্ষণ। তবে এটি নিছক পুরনো দিনের ফোন নয়। আধুনিক মোড়কেই ফিরছে ব্ল্যাকবেরি-স্টাইল। সংস্থার লক্ষ্য, সাধারণ স্মার্টফোনের বিকল্প তৈরি করা নয়। বরং একটি ‘কম্প্যানিয়ন ফোন’ দেওয়া। যেখানে প্রয়োজনীয় ফিচার থাকবে। অতিরিক্ত জটিলতা নয়।
এই ফোনে ব্ল্যাকবেরির মতো ডিজাইন থাকলেও আধুনিক ফিচারের অভাব নেই। আইফোনের অ্যাকশন বাটনের মতো একটি প্রোগ্রামেবল সাইড বাটন দেওয়া হয়েছে। আলাদা করে এয়ারপ্লেন মোডের জন্যও রয়েছে একটি স্পেশাল বাটন।
দামও কম নয়। ক্লিকস কমিউনিকেটরের দাম রাখা হয়েছে ৪৯৯ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। তবে আগাম বুকিং করলে ১৯৯ ডলারে ফোনটি রিজার্ভ করা যাবে। যাঁরা রিজার্ভ করবেন, তাঁদের জন্য ‘আর্লি বার্ড প্রাইস’ ৩৯৯ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা।
ফিচারের দিক থেকে ফোনটি বেশ শক্তপোক্ত। এতে রয়েছে ব্যাকলিট, টাচ-সেন্সিটিভ QWERTY কিবোর্ড। শুধু টাইপিং নয়, স্ক্রলিংও সাপোর্ট করে এই কিবোর্ড। ফোনে রয়েছে USB-C পোর্ট, ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক এবং মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট।
ডুয়াল সিম সাপোর্ট রয়েছে। একটি ফিজিক্যাল সিম, একটি eSIM। ডিসপ্লে ৪.০৩ ইঞ্চির AMOLED। ব্যাটারি ৪,০০০ mAh। ক্যামেরা বিভাগেও কোনও কাটছাঁট নেই। রিয়ার ক্যামেরা ৫০ মেগাপিক্সেল। সামনে ২৪ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।
ফোনটি চলে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে। প্রসেসর হিসেবে রয়েছে মিডিয়াটেক ৫জি চিপসেট। ব্যবহারকারীরা চাইলে ফোনের কভারও বদলাতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, কিপ্যাড ফোনের যুগ ফেরাতে চাইছে ক্লিকস। তবে আধুনিক স্মার্টফোনের ছোঁয়া রেখেই। বাজারে কতটা সাড়া পড়ে, সেটাই এখন দেখার।