বার্ধক্য ভাতা আরও বাড়বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বার্ধক্য ভাতা প্রকল্পে মাসিক আর্থিক সাহায্য ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করা হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, আরও বাড়বে বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ। কী ভাবে নতুন করে আবেদন করা যাবে এই প্রকল্পে? তা-ও এদিন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা আগে থেকেই চালু ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের অধীনে মাসে ১০০০ করে পেতেন। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সেই ভাতা বাড়িতে ১৫০০ করেন। তফসিলি জাতি-জনজাতির মহিলাদের ক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৭০০ টাকা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধা পাবেন। যাঁদের ৬০ বছর পেরিয়ে যাবে, তাঁরা বার্ধক্য ভাতার আওতায় চলে আসবেন। ওই একই পরিমাণ টাকা বার্ধক্য ভাতা হিসাবে পাবেন।
কিন্তু, ভোটের মুখে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর অর্থবৃদ্ধি করা হলেও বার্ধক্য ভাতা বাড়েনি। ১০০০ করেই অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল ষাটোর্ধ্বদের।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর BJP সরকার চালু থাকা কোনও সরকারি প্রকল্প বন্ধ করেনি। তবে বদলেছে নাম, বেড়েছে ভাতার অঙ্কও। 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর বদলে এখন 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার'-এ মিলছে মাসিক ৩০০০ টাকা। আর বার্ধক্য ভাতাও বেড়ে হয়েছে ১৫০০। তবে এবার শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আরও বাড়ানো হবে এই ভাতার অঙ্ক।
অনুমান করা হচ্ছে ১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে এবার থেকে বার্ধক্য ভাতা দাঁড়াবে ২০০০ টাকা। তিনি বলেন, 'পরের বাজেটে আমি বার্ধক্য ভাতার অঙ্ক বাড়িয়ে দেব। কথা দিলাম। আমি চাই রাজ্যের প্রবীণরা ভাল থাকুন।'
কী ভাবে এই বার্ধক্য ভাতা মিলবে, নতুন করে কারা কী ভাবে অ্যাপ্লাই করতে পারবেন, তা-ও এদিন জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে ৩ দিনের সেবা সেতু কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। এই ৩ দিনের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে, প্রতিটি ব্লকে সেবু সেতু ক্যাম্প হবে। সেই ক্যাম্পেই মিলবে বার্ধক্য ভাতার ফর্ম। যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হলেই মিলবে বার্ধক্য ভাতা। তবে এখন নতুন করে আবেদন করলেও মিলবে ১৫০০ টাকাই। পরের বাজেটে অর্থ বাড়ানো হলে নতুন অঙ্ক ঢুকবে অ্যাকাউন্টে।