আজ থেকে অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ শুরু হলোরাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হল সোমবার। লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার বাকি ৩৫ জন সদস্য। এরপরেই নবান্নে নতুন ক্যাবিনেটের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি জানিয়ে দেন, আজ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন ফর্ম পূরণ শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এতদিন অন্নপূর্ণা যোজনা-এর অফলাইন ফর্ম ফিলআপ চালু ছিল। আজ থেকে অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ শুরু হলো।’
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বেশ কিছু ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইসঙ্গে তৃণমূল আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘দুর্নীতি’-র তদন্তে SIT গঠনের ঘোষণাও করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা লুট করেছেন। আমরা কাউকে ছাড়ব না। এর জন্য সিট গঠন করেছি। লুটেরাদের পার্টির প্রমাণ এটা। আইনের মাধ্যমে ক্র্যাকডাউন করব। বিজেপি কর্মীদের বলব, কোথাও আইন হাতে তুলে নেবেন না। সরকারের উপর ভরসা রাখুন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় কেন ১১ পাতার ফর্ম তারও এদিন ব্যাখ্যা দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছিল। যাঁরা করছিলেন, তাঁরা নিজেরাই বিভিন্ন জায়গায় ফর্ম পূরণের জন্য এগিয়ে এসেছেন। ২০ আধিকারিক জেলায় গিয়ে কাজ মনিটর করছেন। আশা করছি বুধবার বড় সংখ্যায় টাকা ট্রান্সফার হবে।
নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বেশ কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকৃত উপভোক্তার তথ্য নিতেই এই ফর্ম। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সময়ে একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের খোঁজ মিলেছে। এই ২২ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। ১৫টি অ্যাকাউন্ট চালাতেন মুস্তাফিজ়ুর। রাকিবুল শেখের নামেও ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অ্যাকাউন্ট। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিট গঠনের কথাও হচ্ছে। এই ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কততে গিয়ে দাঁড়াবে জানি না। রাকিবুল, মুস্তাফিজুররা মিলে অন্তত ৩০ লক্ষ সরকারি টাকা লুট করেছে। হাজার হাজার তৃণমূল নেতারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা লুট করেছে।’
শুভেন্দু জানান, ২২টি ফলস অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে, যেখান থেকে মহিলারা নয় পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়েছেন। এটার তদন্তের গতি আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী ১৫টি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাচ্ছেন, তারিকুল রহমানের ৬টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, এসআইআরে বাদ যাওয়া নাম ও পুরুষ উপভোক্তা মিলিয়ে অন্তত ৩০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। হিসেব বলছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ করেছে পূর্বতন সরকার।
অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে শুভেন্দু আরও বলেন, 'যারা ১২ পাতা, ১৬ পাতা, ১৮ পাতা করছেন – জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত নেতা ও তাদের দলকে বলব সংখ্যাটা কত হবে আমরা জানি না। অনুপ্রবেশকারী, হাজার হাজার তৃণমূল নেতা – যারা মহিলা নন – তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুট করছেন। আমরা কাউকে ছাড়ব না। সিট গঠন করতে বলেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি। রাকিবুল, মুস্তাফিজুরদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে। লুটেরাদের পার্টি কীভাবে লুট করেছে এটা তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে খতিয়ে দেখা হবে।' অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যা প্রচার চলছে। ফর্মপূরণ করতে এগিয়ে এসেছেন অনেকে। জনগণ সহযোগিতা করেছেন। সোমবার থেকে অনলাইনে চালু হয়ে গিয়েছে। আশা করছি বুধবার আরও অনেকের ফর্ম ফিলআপের কাজ হয়ে যাবে।' ওইদিনই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।