৫০ পয়সার কয়েন একসময় দোকান থেকে টফি বা ছোটখাটো জিনিস কেনার ক্ষেত্রে ৫০ পয়সার কয়েন ব্যবহার করা হতো। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ৫০ পয়সার কয়েন এখন কেউ ব্যবহার করে না। ওই কয়েন যেন জাদুঘরের জিনিস হয়ে উঠেছে। সেই কারণে বাড়ির পুরোনো আলমারি বা কোনও বাক্সে এই কয়েন পাওয়া গেলে অনেকেই ভাবেন, এর আর কোনও মূল্য নেই।
কিন্তু সত্যিই কি ৫০ পয়সার কয়েনের কোনও দাম নেই? এই কয়েন কি এখনও ভারতে বৈধ? আপনার কাছে এমন কয়েন থাকলে কী করবেন?
৫০ পয়সার কয়েন কি এখনও বৈধ?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ পয়সা, ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা এবং ২০ টাকার কয়েন এখনও বৈধ মুদ্রা। অর্থাৎ ৫০ পয়সার কয়েনের বৈধতা এখনও রয়েছে। কিন্তু, ২৫ পয়সা এবং তার কম মূল্যের কয়েন ৩০ জুন ২০১১ সাল থেকে আর বৈধ মুদ্রা নয়। অর্থাৎ এগুলি বাজারে অচল। তবে ৫০ পয়সার কয়েন বৈধ হলেও বর্তমানে দোকানপাটে এর ব্যবহার খুবই কম। তাই অনেক সময় দোকানদার এই কয়েন নিতে চান না।
৫০ পয়সার কয়েন দিয়ে কত টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়?
৫০ পয়সার কয়েন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। RBI-এর নিয়ম অনুযায়ী, একটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত অর্থমূল্য মেটাতে ৫০ পয়সার কয়েন ব্যবহার করা যায়। অর্থাৎ আপনার কাছে ৫০ পয়সার ২০টি কয়েন থাকলে তার মোট মূল্য হবে ১০ টাকা। এই সীমার মধ্যে কয়েন ব্যবহার করা বৈধ। তবে কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় ১০ টাকার বেশি মূল্যের ৫০ পয়সার কয়েনও গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু তাঁকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায় না।
পুরনো ৫০ পয়সার কয়েন থাকলে কী করবেন?
এখন আপনার কাছে যদি পুরনো ৫০ পয়সার কয়েন জমে থাকে এবং দোকানে সেগুলি ব্যবহার করতে না পারেন, তাহলে সেগুলি ব্যাঙ্কে জমা করতে পারেন। RBI-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ব্যাঙ্কের শাখাগুলিকে কয়েন গ্রহণ এবং লেনদেন বা বিনিময়ের সুবিধা দিতে হয়। ছোট মূল্যের নোট বা কয়েন গ্রহণ করতে ব্যাংক শাখা অস্বীকার করতে পারে না।
কয়েন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও RBI কোনও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেনি। ফলে আপনার কাছে থাকা ৫০ পয়সার কয়েন ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারেন অথবা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সেগুলি বদলে নিতে পারেন।
অর্থাৎ, পুরনো ৫০ পয়সার কয়েনের মূল্য শেষ হয়ে যায়নি। একটি ৫০ পয়সার কয়েনের মূল্য এখনও ৫০ পয়সাই। শুধু দৈনন্দিন লেনদেনে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে গিয়েছে।