মে মাসে বেতন বাড়ছে ব্যাঙ্ক কর্মীদের
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের পর এবার ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বাড়ানো হয়েছে। সরকার ১ মে থেকে ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি করেছে। এই বর্ধিত ডিএ হার ২০২৬ সালের মে-জুলাই পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। এই ঘোষণাটি কেন্দ্রীয় সরকারের তার কর্মচারীদের জন্য DA ঘোষণার পরই এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ ২% বৃদ্ধি করে ৫৮% থেকে ৬০% করা হয়েছে। চলুন ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের জন্য DA বৃদ্ধির বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
নতুন পরিবর্তন অনুযায়ী, ডিএ (DA) ২৫.৭০% নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী ত্রৈমাসিকের ২৫% থেকে বেশি। এটি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের গড় ভোক্তা মূল্য সূচকের (CPI) উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ডিএ ০.৭০% বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, এই ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের বেতনে সামান্য বৃদ্ধি দেখা যাবে। এই বৃদ্ধি সামান্য হলেও, এটি সকল স্তরের কর্মচারীদের প্রভাবিত করবে।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝুন
যদি কোনও ব্যাঙ্ক কর্মচারীর বেসিক স্যালারি প্রায় ৬৭,০০০ টাকা হয়, তাহলে পূর্ববর্তী ২৫% হারে ডিএ হতো ২১,৪৫১.৮৫ টাকা। এখন, নতুন সংশোধনের পর, ডিএ হয়েছে ২৫.৭০%, যার পরিমাণ ২২,০৫২.৫০ টাকা। এর অর্থ হলো, প্রতি মাসে অতিরিক্ত ডিএ বৃদ্ধি পাবে ৬০০.৬৫ টাকা। বেসিক স্যালারি বাড়ার সঙ্গে ডিএ-র পরিমাণও বাড়বে।
ডিএ কতটা বাড়ানো হয়েছে?
সরকার ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাই ত্রৈমাসিকের জন্য ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫.৭০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, এই ০.৭০ শতাংশ বৃদ্ধিকে ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও ইউনিয়নগুলো 'অত্যন্ত কম' বলছে।
বেতন কত বাড়বে?
এই ০.৭০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন পে স্কেলের কর্মচারীদের মাসিক বেতন মাত্র ৪৩৫ থেকে ১,০৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়বে। যেসব কর্মচারীর বেসিক স্যালারি ৪৮,০০০ থেকে ১,১৭,০০০ টাকার মধ্যে, তাদের জন্য এই সংশোধিত ডিএ-র অর্থ হলো ৪৩৫ থেকে ১,০৫০ টাকার মধ্যে বৃদ্ধি। যদিও এই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য নাও হতে পারে, এটি নিশ্চিত করে যে কর্মচারীদের ভাতা মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।
কার বেতন কত বাড়বে?
কোন ভিত্তিতে গণনাটি করা হয়েছিল?
ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA)-এর ২ মে তারিখের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আপডেট মহার্ঘ ভাতা (ডিএ)-র পরিমাণ মার্চ ২০২৬-এ সমাপ্ত ত্রৈমাসিকের জন্য শিল্প শ্রমিকদের সর্বভারতীয় গড় ভোক্তা মূল্য সূচক (AIACPI-IW)-এর উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। মহার্ঘ ভাতার পর্যায়ক্রমিক সংশোধনের জন্য এই সূচকটিই মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
সরকার সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলোকে কী বলেছে?
সম্প্রতি, সরকার সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলোকে (পিএসবি) সময়মতো ত্রয়োদশ দ্বিপাক্ষিক বেতন চুক্তির জন্য আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করতে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করতে বলেছে। সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলোর কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন সংশোধন ১ নভেম্বর, ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। বিমা কোম্পানিসহ সরকারি খাতের ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি পাঁচ বছর অন্তর তাদের কর্মচারীদের বেতন সংশোধন করে। এই প্রক্রিয়ার অধীনে, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ) একটি সর্বসম্মত বেতন চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কর্মচারী সংগঠন ও ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে। অর্থ পরিষেবা বিভাগ একটি চিঠির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক প্রধানদের আসন্ন বেতন সংশোধনের জন্য আলোচনা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আলোচনা প্রক্রিয়াটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এর অর্থ হলো, নতুন বছরে ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি কর্মচারীরা ২% মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্মীরা পেয়েছে মাত্র ০.৭০%, এটা কি অন্যায্য নয়? এটি একটি ন্যায্য প্রশ্ন। আপাতদৃষ্টিতে, পার্থক্যটা চোখে পড়ার মতো। কিন্তু একটু গভীরে গেলেই বোঝা যায়, বিষয়টি বৈষম্য নিয়ে ততটা নয়, যতটা ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে।
মুদ্রাস্ফীতি ও ভিন্ন গণনা পদ্ধতি
ব্যাঙ্ক কর্মচারী এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী উভয়ই মুদ্রাস্ফীতির ওপর ভিত্তি করে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) পেয়ে থাকেন। এর সাধারণ ভিত্তি হলো শিল্প শ্রমিকদের জন্য ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই-আইডব্লিউ)। কিন্তু এখানেই বিষয়গুলো ভিন্ন হতে শুরু করে। ব্যাঙ্কবাজারের সিইও আধিল শেঠি যেমনটা ব্যাখ্যা করেছেন, এই ডেটা যেভাবে ব্যবহার করা হয়, সেখান থেকেই এই ব্যবধানটি তৈরি হয়। 'ব্যাঙ্ক ডিএ ত্রৈমাসিকভাবে সংশোধন করা হয় এবং এটি সিপিআই-আইডব্লিউ-এর ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে, তাই প্রতিটি বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিএ বছরে দুবার ১২-মাসের গড় ব্যবহার করে সংশোধন করা হয়, যা একাধিক মাসের মুদ্রাস্ফীতিকে একত্রিত করে একটিমাত্র সমন্বয়ে পরিণত করে।' সহজ কথায়, ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা ছোট ছোট কিন্তু ঘন ঘন আপডেট পান, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা কম কিন্তু বড় আকারের আপডেট পান।