পুজোয় টয় ট্রেনে লক্ষ্মীলাভ রেলেরপুজোর মরশুমে রেকর্ড পরিমাণে আয় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের। টয়ট্রেন থেকে পুজোর মাসে মাত্র ২১ দিনেই কোটি টাকার বেশি উপার্জন করল DHR। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পুজোর সিজনে পর্যটকদের থেকে বিপুল সাড়া পেয়েছে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত আইকনিক দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)।
বৃহস্পতিবার দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিষেবা চালিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে মোট ১২,০০০ যাত্রীকে পরিবহণ করেছে। এই পরিষেবার ফলে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লক্ষ ২৩ হাজার ১০০ টাকা। DHR-এর দাবি, পর্যটকদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে, ঐতিহাসিক স্টিম ও ডিজেল ইঞ্জিনচালিত পাহাড়ি রেলপথের আকর্ষণ আজও অটুট। পাহাড় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে এটি এখনও অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য।
রেলের তরফে জানানো হয়েছে, পুজোর এই মরশুমে DHR বিভিন্ন ধরনের বিশেষ পর্যটন পরিষেবা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। হিমালয়ের মনোরম পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার পাশাপাশি নিজেদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণে DHR প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেই জানিয়েছে রেল।
অন্যদিকে, চলতি মাসেই টয়ট্রেনের একটি নতুন রুটও চালু করেছে DHR। ডিজেল চালিত ‘মুক্তধারা’ (ট্রেন নম্বর ০২৫৪৩) নামে নতুন একটি বিশেষ ট্রেন কার্শিয়াং থেকে মহানদী এবং মহানদী থেকে কার্শিয়াং পর্যন্ত চলাচল করছে। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি গভীর সাহিত্যিক শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে ট্রেনটির নাম রাখা হয়েছে ‘মুক্তধারা’।
‘মুক্তধারা’ বিশেষ ট্রেনটি পর্যটক, ঐতিহ্যপ্রেমী এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যাকালীন যাত্রার অভিজ্ঞতা দিতে তৈরি করা হয়েছে। কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, সবুজে ঘেরা চা-বাগান এবং বিশ্ববিখ্যাত পাহাড়ি রেলপথের অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং নিদর্শনের মধ্য দিয়ে যাত্রা করবে এই ট্রেন। পাহাড়ি ঝরনার প্রবাহের কথা মনে করিয়ে দেওয়া স্থানীয় প্রাকৃতিক জলপ্রপাতের নাম অনুসরণ করে এই বিশেষ পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল পর্যটকদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং দার্জিলিং পাহাড়ে স্থানীয় পর্যটনের প্রসার ঘটানো।