Diesel Isobutanol: পেট্রোলে ইথানলের পর এবার ডিজেলে মিশবে আইসোবুটানল, ঠিক কী প্ল্যান সরকারের?

ডিজেলের সঙ্গে আইসোবিউটানল মেশানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্র। এরফলে গাড়ি চলাচলে বা গাড়ির ইঞ্জিনে কী প্রভাব পড়তে পারে? বুঝে নেওয়া যাক।

Advertisement
পেট্রোলে ইথানলের পর এবার ডিজেলে মিশবে আইসোবুটানল, ঠিক কী প্ল্যান সরকারের?পেট্রোলে ইথানলের পর এবার ডিজেলে মিশবে ১৫% আইসোবুটানল
হাইলাইটস
  • ডিজেল নিয়ে নতুন পরীক্ষা করতে চলেছে কেন্দ্র।
  • ডিজেলের সঙ্গে আইসোবিউটানল মেশানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • এরফলে কি মাইলেজ কমে যেতে পারে?

পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মেশানো নিয়ে সব আলোচনা শেষ হতে না হতেই ডিজেল নিয়ে নতুন পরীক্ষা করতে চলেছে কেন্দ্র। সরকার এখন ডিজেলের সঙ্গে আইসোবিউটানল মেশানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বলা হচ্ছে এর উদ্দেশ্য সুদূরপ্রসারী। মূলত বেশি দাম দিয়ে আমদানি করা তেলের উপর নির্ভরতা কমানো, কৃষকদের জন্য নতুন ফসলের সৃষ্টি এবং দূষণ রোধ করাই এই ফ্লেক্স ফুয়েলের আসল লক্ষ্য। কিন্, প্রশ্ন উঠছে এই নতুন জ্বালানি কি গাড়ির ইঞ্জিনের জন্য পারফেক্ট? এরফলে কি মাইলেজ কমে যেতে পারে? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: আগামী বছরগুলিতে ডিজেলও কি পেট্রোলের মতো একটি মিশ্রিত জ্বালানি হয়ে উঠবে?

একেবারে লেটেস্ট আপডেট থেকে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গড়করি ডিজেলে আইসোবুটানল মেশানো নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি, দেশের প্রথম ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি উদ্বোধনের সময় গড়করি বলেন, "আমরা ডিজেলে ইথানল যোগ করতে পারি না , তাই ইথানল থেকে আইসোবিউটানল তৈরি করা হচ্ছে। এই আইসোবিউটানল ডিজেলের বিকল্প হতে পারে।"

গড়কারি বলেন, "আমি কির্লোস্করের দুটি জেনারেটর সেট চালু করেছি। একটি ১০০ শতাংশ ইথানলে এবং অন্যটি আইসোবিউটানলে সফলভাবে চলছে। সুতরাং ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব। ডিজেলের সঙ্গে ১৫ শতাংশ আইসোবিউটানল মেশানোর প্রস্তুতি চলছে।" তবে এর আগে গড়করি ডিজেল মিশ্রণ নিয়ে কথা বলেছেন। গত অগস্টে পুনেতে প্রাজ ইন্ডাস্ট্রিজের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, প্রাজ ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ARAI আইসোবিউটানল নিয়ে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে এবং এটি নিয়ে ক্রমাগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।

ফ্লেক্স ফুয়েল ডিজেল কবে নাগাদ আসতে পারে?

এই ডিজেলের মিশ্রণের জন্য এখনও কোনও সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে, জ্বালানি ও শক্তি খাতে সরকারের সক্রিয় মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে, দেশের রাস্তাঘাট ও মাঠ শীঘ্রই আইসোবিউটানলের গন্ধে ভরে উঠবে। একদিকে, সরকার দিল্লিতে E85 জ্বালানি (৮২.১২ টাকা) চালু করেছে, যার দাম সাধারণ পেট্রোলের (১০২.১২ টাকা) চেয়ে প্রায় ২০ টাকা কম। এখন, সরকার শীঘ্রই ডিজেল মিশ্রণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

Advertisement

কিন্তু ডিজেলে আইসোবিউটানল মেশানোর আগে এই নতুন মিশ্রণ ব্যবস্থাটি অটোমোবাইল এবং কৃষি খাতকে কতটা প্রভাবিত করবে তা বোঝা জরুরি। পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির পাশাপাশি দেশের একটি বিশাল অংশ ডিজেলচালিত যানবাহন ব্যবহার করে। যার মধ্যে রয়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ী এবং শিল্প যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারকেরা। 

একটি গবেষণা বলছে, ডিজেলে অল্প পরিমাণে আইসোবিউটানল যোগ করলে তা ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতার উপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না। উল্টে কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই মিশ্রণ জ্বালানি বাতাসে ভাসমান কণা এবং কিছু দূষণকারী পদার্থের নির্গমন কমাতে পারে। তবে, মিশ্রণের অনুপাত বাড়ালে সিটেন সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ইগনিশন ডিলে হতে পারে, যা ইঞ্জিনের শক্তি, মাইলেজের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, ডিজেলে মেশানোর আগে এর পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি।

কৃষকদের ব্যবস্থা করা জরুরি

ফ্লেক্স ফুয়েলের পর গাড়ি কোম্পানিগুলো ক্রমাগত নিজেদের গাড়ি পরিবর্তন করে বাজারে ছাড়লেও,কৃষকরা কিন্তু সেই স্বাদ নিতে পারেন না। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ট্রাক্টর বাজার। ডাইমেনশন মার্কেট রিসার্চের মতে, এখানে প্রতি বছর ৯ লক্ষেরও বেশি ট্রাক্টর উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে কৃষি, নির্মাণ, খনি এবং লজিস্টিকস যন্ত্রপাতিও রয়েছে।

কৃষকদের পক্ষে ক্রমাগত নতুন ট্রাক্টর কেনা বা তাদের কৃষি যন্ত্রপাতি উন্নত করা সহজ নয়। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ সক্রিয় ট্রাক্টর রয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ট্রাক্টর পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে কৃষকরা ব্যবহার করেন। এই কৃষকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে কয়েক দশক পুরোনো ট্রাক্টর রয়েছে। এমনকি কারও কারও কাছে কয়েক দশক পুরোনো মডেলও রয়েছে যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই নতুন ফ্লেক্স ফুয়েল এই পুরোনো ট্রাক্টরগুলির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই সরকারকে এ বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করতে হবে।

 

POST A COMMENT
Advertisement