
দেশে ইথানল যুক্ত জ্বালানির ব্যবহার ঘিরে তোলপাড় চলছে। এই জ্বালানির ব্যবহারে জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রক। জ্বালানি আমদানির খরচ কমাতে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল চালিত গাড়ি তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে E20, বা E85-এর মতো ইথানল ব্লেন্ডেড ফুয়েল গাড়ির মাইলেজ কমিয়ে দিচ্ছে, এমন সংশয়ও তৈরি হয়েছে। অনেক গাড়ি নির্মাতা সংস্থার আশঙ্কা, এই পেট্রোলে গাড়ির ক্ষতিও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার গাড়ি অক্ষত রাখতে কী টিপস মানবেন?
অনেকেই নিজেদের গাড়িতে এই পেট্রল ভরবেন কি না, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন। পেট্রোলচালিত গাড়ি বা বাইক থেকে নির্গত হওয়া ধোঁয়ায় যে দূষণ হয়, তা থেকে পরিবেশকে রক্ষার জন্যই বাজারে আনা হয়েছে ইথানল যুক্ত জ্বালানি, এমনটা দাবি কেন্দ্রের। কিন্তু আদৌ এই পেট্রোল কতটা উপযোগী, তা নিয়ে একাধিক সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, দিন দিন কমে যাচ্ছে মাইলেজও।
> গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টায়ারের হাওয়া। যা কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে ঘর্ষণ বেশি হয়। ফলে গাড়ি চালাতে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি ব্যবহার করতে হয়। এতে জ্বালানি স্বাভাবিক ভাবেই বেশি খরচ হয়। অনেকেই টায়ারের হাওয়া নিয়ে ততটা মাথা ঘামান না। সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। মাসে দু’বার এবং দীর্ঘ সফরে বেরোনোর আগে অবশ্যই টায়ারের কতটা হাওয়া রয়েছে, তা পরীক্ষা করা উচিত। এতে শুধু মাইলেজই বাড়বে না, টায়ারের আয়ুও দীর্ঘ হয়।
> হঠাৎ গতি বাড়ানো বা জোরে ব্রেক করা এড়িয়ে চলা আবশ্যক। গাড়ি কীভাবে চালানো হচ্ছে, তা জ্বালানির খরচের উপর প্রভাব ফেলে। ঘন ঘন গতিবৃদ্ধি বা হঠাৎ ব্রেক কষা কিংবা অযথা ওভারটেকের চেষ্টা অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করায়। ব্রেক সাসপেন্সন, ইঞ্জিন ও টায়ারের উপর চাপ কম রাখা উচিত বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
> নিয়মিত সার্ভিসিং না করালে গাড়ির ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। নোংরা এয়ার ফিল্টার, পুরোনো ইঞ্জিন অয়েল বা অপরিষ্কার ফুয়েল ইনজেক্টর ইঞ্জিনের জেরে জ্বালানির খরচ বাড়ে।
> নির্ধারিত সময়ে এয়ার ফিল্টার বদলানো উচিত। বিশেষ করে E20 পেট্রল ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়মিত সার্ভিসিং আরও বেশি প্রয়োজন।
> সবসময় সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় এসি চালালে জ্বালানি খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে কম দূরত্বের যাত্রায় এসি ব্যবহারের ফলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মাইলেজ কমে যেতে পারে। গাড়ির গতি ৬০-৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার কম থাকলে জানলার কাচ খোলাই রাখা উচিত। তবে হাইওয়েতে জানলা বন্ধ রেখে মাঝারি তাপমাত্রায় এসি চালানো উপযুক্ত। এতে গাড়ি চালানোর সময়ে তুলনামূলক ভাবে কম জ্বালানি খরচ হয়।
> অনেকেই সিগন্যালে গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখেই বসে থাকেন। কিন্তু এতে অকারণে জ্বালানি নষ্ট হয়। সেটাও এড়িয়ে চলা উচিত। যদি ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তা হলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়াই উচিত। এতে অনেকটা পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
> গাড়িতে অতিরিক্ত ওজন বহন করলেও ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। ফলে জ্বালানি খরচও বেড়ে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় লাগেজ, ভারী সরঞ্জাম গাড়িতে কম রাখুন। প্রতি ৪৫ কেজি অতিরিক্ত ওজন গাড়ির মাইলেজ প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে বলে জানাচ্ছে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থাগুলি।
E20 পেট্রল পরিবেশবান্ধব হলেও এর কারণে কিছু ক্ষেত্রে মাইলেজ সামান্য কমতে পারে। তবে নিয়মিত এই টিপসগুলি মেনে চললে জ্বালানির খরচ বাঁচানো সম্ভব বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।