রেললাইনে জল জমলেও আর দেরিতে চলবে না ট্রেনবর্ষায় রেল লাইনে জল জমলে ট্রেন ছাড়তে শিয়ালদা থেকে দেরি হওয়া প্রতি বছরের চিত্র। এছাড়াও, ভারী বৃষ্টির জেরে সিগন্যাল বা ট্র্যাকের পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে, ফলে ভোগান্তির মুখে পড়েব রেলযাত্রীরা। তবে এবার সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়ে বড় পদক্ষেপ নিল পূর্ব রেল। শিয়ালদা ইয়ার্ডে দক্ষিণ শাখার ট্রেন চলাচলের জন্য SDAH/EI-South-এ) "ডুয়াল ডিটেকশন" নামক একটি অত্যন্ত উন্নত ট্রেন সনাক্তকরণ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করল পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশনের সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন (S&T) বিভাগ। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডের নির্দেশে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নয়া ব্যবস্থার আওতায় জল জমে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক সার্কিটে বর্তমানে চালু থাকা 'ডিসি ট্র্যাক সার্কিট' ব্যবস্থার সঙ্গেই সমান্তরাল ভাবে এক্সেল কাউন্টার ভিত্তিক 'মাল্টি সেকশন ডিজিটাল এক্সেল কাউন্টার' (MSDAC) বসানো হয়েছে। একই ট্র্যাকে ট্রেনের উপস্থিতি বোঝার মতো প্রযুক্তির ফলে প্রবল বৃষ্টির সময় রেললাইনে জল জমলেও তা আর মিথ্যা সিগন্যাল বা ট্র্যাকের পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ হবে না বলেই মনে করছে রেল।
এই টেকনিক্যাল বিষয়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে, শিয়ালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা জোর দিয়ে বলেন, "ট্র্যাক সার্কিট হলো বৈদ্যুতিক রেল ব্যবস্থা যা অটোমেটিক সিগন্যাল ও পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে একই সেকশনে দুটি ট্রেন একসঙ্গে না চলে আসে। যেহেতু ভারী বৃষ্টি এবং জমে থাকা জল প্রথাগত বৈদ্যুতিক ট্র্যাক সিগন্যালে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তাই এর পাশাপাশি MSDAC ব্যবস্থা সরাসরি ট্রেনের এক্সেল (চাকা সংযোগকারী অক্ষ) গণনা করে একটি নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে। এই "ডুয়াল ডিটেকশন" সিস্টেম একই লাইনে দুটি ট্রেন চলে আসার ভুলকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে এবং দেশের অন্যতম ব্যস্ততম টার্মিনাল শিয়ালদা ইয়ার্ডের কার্যক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে।"
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক, শিবরাম মাঝি বলেন "পূর্ব রেল সর্বদা যাত্রীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা করে। এই নতুন ব্যবস্থাটি ভারী বর্ষার মধ্যেও প্রতিটি যাত্রীর ভ্রমণকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও বেশি আরামদায়ক, নিরাপদ, সুবিধাজনক ও ঝামেলাহীন করে তুলবে।"