ব্যাপক পরিমাণে সস্তা হয়ে গিয়েছে ডিমমধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে তেল ও গ্যাস নিয়ে আমজনতার মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জ্বালানির পর্যাপ্ত ভাণ্ডার মজুদ রয়েছে বলে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে আশঙ্কা কমেনি। এরইমধ্যে সামনে এল উলটপুরাণ। একদিকে যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে, তখন অন্যদিকে ব্যাপক পরিমাণে সস্তা হয়ে গিয়েছে ডিম।
বেঙ্গালুরুতে ডিমের দাম ৫ টাকা
বেঙ্গালুরুতে পাইকারি ডিমের দাম প্রায় ৭ টাকা থেকে কমে প্রায় ৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাইকারি ক্রেতারা এখন ১০০টি ডিম প্রায় ৫০০ টাকায় কিনছেন। ফলে খুচরো বাজারেও কমেছে রেট। সাধারণ মানুষ দোকান থেকে ৬ টাকা প্রতি পিস হিসেবে ডিম কিনছেন। যা আগে ছিল কমপক্ষে ৮ টাকা।
কেন ডিমের দাম কমছে?
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতেই ধড়াম করে পড়েছে ডিমের দাম। মূলত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও পরিবহণ রাস্তায় বিঘ্নের জেরে আরব আমিরশাহী, ওমান, কাতার এবং বাহারিনের মতো দেশগুলির সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ভারত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে ১ কোটি ডিম প্রতিদিন রফতানি করা হত, তা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে দেশে অতিরিক্ত ডিমের স্টক জমে গিয়েছে। যার জেরে সস্তায় ডিম পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। কিন্তু ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন পোল্ট্রি ফার্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
বাংলায় ডিমের দাম কত?
অন্য রাজ্যের মতোই বাংলাতেও ডিমের দাম রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। শহর কলকাতায় প্রতি পিস ডিমের দাম যুদ্ধের আগে ছিল সাড়ে ৬টা থেকে ৭ টাকা। কিন্তু সেই দাম এখন কমে হয়েছে সাড়ে ৫ টাকার আশেপাশে। অর্থাৎ প্রতি পিস ডিমে ১ থেকে ১.৫০ টাকা কমেছে ডিমের দাম।
ওয়েস্ট বেঙ্গল পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মদন মাইতি এ বিষয়ে bangla.aajtak.in -কে জানালেন, "আজ যেখানে ডিমের পাইকারি দাম ৪৬০ টাকা (১০০ পিস)র আশেপাশে রয়েছে। তা আগে ৬১০-৬২০ টাকা ছিল। ডিম রফতানি বন্ধ হতেই ভারতের বাজারে ৩০০০-৪০০০ ট্রাক ডিম অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছে। আর সেই কারণেই ডিমের বাজার পড়ে গিয়েছে।"
এ বিষয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই অতিরিক্ত ডিম খুব সহজেই অন্য জায়গায় ব্য়বস্থা করা যেতে পারে। যেমন- মিড ডে মিলে ডিমের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে, হাসপাতালগুলিতে অসুস্থ রোগীদের ডিম দেওয়ার দিন বাড়ানো যেতে পারে। এরফলে কিছু ডিম বিক্রি হয়ে যাবে।