New EPFO 3.0 Rules: সপ্তাহভর অপেক্ষা শেষ ,লাগবে না নথিও, এবার সোজা ATM ও UPI থেকেই তুলুন PF-এর টাকা

EPF Balance Withdrawal: এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) তার ৮ কোটিরও বেশি কন্ট্রিবিউটারের জন্য একটি নতুন প্রযুক্তি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করছে, যার মাধ্যমে পিএফ-এর টাকা সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হবে।

Advertisement
সপ্তাহভর অপেক্ষা শেষ ,লাগবে না নথিও, এবার সোজা ATM ও UPI থেকেই তুলুন PF-এর টাকা এখন PF অ্যাকাউন্ট থেকে ১০০ শতাংশ টাকাই তোলা যাবে

EPF Balance Withdrawal: কর্মচারীদের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আমানত প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) সম্পর্কে অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর আসছে। চাকরিজীবী মানুষদের প্রায়শই তাদের সারাজীবনের উপার্জনের টাকা তোলার জন্য অফিসে অফিসে ছোটাছুটি করতে হতো, কিন্তু এখন এই পুরো প্রক্রিয়াটি বদলে যেতে চলেছে। আসলে, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) তাদের ৮ কোটিরও বেশি  কন্ট্রিবিউটারের  জন্য একটি নতুন প্রযুক্তি-চালিত ব্যবস্থা চালু করছে, যার মাধ্যমে পিএফ-এর টাকা সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। এর জন্য কোম্পানির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করারও কোনও দরকার পড়বে না।

পুরনো সিস্টেমে অনেক সময় লাগে
এখন পর্যন্ত, সদস্যদের EPFO ​​থেকে টাকা তুলতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হতো। বর্তমান ব্যবস্থায়, কোনও সদস্যের টাকার প্রয়োজন হলে, তাঁকে প্রথমে EPFO ​​পোর্টালে গিয়ে ফর্ম ৩১ পূরণ করতে হতো। এরপর KYC যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। তারপর অনুমোদনের জন্য আবেদনটি কোম্পানিতে পাঠানো হতো। কোম্পানি সময়মতো অনুমোদন না দিলে, অথবা নথিপত্রে নাম ও জন্মতারিখে সামান্য ভুল থাকলেও, পুরো আবেদনটিই বাতিল হয়ে যেত। এই সম্পূর্ণ কাগজপত্র ও যাচাই প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগত। এছাড়াও, উত্তোলনের পরিমাণ ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে ম্যানুয়াল যাচাইয়ের প্রয়োজন হতো, যা বিলম্বকে আরও বাড়িয়ে দিত।

নতুন সিস্টেমের মাধ্যমে আপনি মিনিটের মধ্যেই আপনার পিএফ-এর টাকা তুলে নিতে পারবেন
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO) তাদের সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং স্বয়ংক্রিয় করার জন্য বর্তমানে 'EPFO 3.0' নিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং সফটওয়্যারের ত্রুটিগুলো সমাধান করা হচ্ছে। এই নতুন সিস্টেমে, সদস্যরা UMANG অ্যাপের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য স্থানান্তরের পরিমাণ দেখতে পারবেন। এরপর পোর্টালে একটি সুরক্ষিত QR কোড তৈরি হবে। এই QR কোডটি ব্যবহার করে UPI পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সরাসরি লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাবে। অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে গেলে, গ্রাহকরা এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে পারবেন অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন পেমেন্ট করতে পারবেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো, এই অটো-সেটলমেন্ট পদ্ধতির সীমা ১,০০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫,০০,০০০  টাকা করা হয়েছে।

Advertisement

Whatsapp-এর মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়
উল্লেখ্য, EPFO ​​তার সদস্যদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পরিষেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আজকাল সবার কাছেই স্মার্টফোন আছে এবং সবাই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। সদস্যদের কেবল EPFO-এর অফিসিয়াল, সবুজ টিক দেওয়া, যাচাইকৃত WhatsApp নম্বরে 'Hello' পাঠাতে হবে। এরপর একটি সুরক্ষিত চ্যাটবট কর্মীদের ঘরে বসেই তাদের অনেক সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। সদস্যরা তাদের রেজিস্ট্রেড মোবাইল নম্বরে EPFO-সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অ্যালার্ট এবং মেসেজ পাওয়ার বিকল্পও পাবেন।

EPFO 3.0-এর অধীনে, সদস্যরা সরাসরি তাঁদের UPI-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পিএফ-এর টাকা পাঠাতে পারবেন। এই পরিষেবাটির পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডাভিয়া এই তথ্য দিয়েছেন।  তবে, এতকিছুর পরেও যদি আপনি ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করেন, তাহলে আপনি UPI-এর মাধ্যমে পিএফ-এর টাকা তুলতে পারবেন না। 
চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই পাঁচটি কাজ কী-.
 আপনার UAN অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে

 আপনার UAN নম্বর সক্রিয় থাকলেই আপনি পিএফ-এর টাকা তুলতে পারবেন। তাই, UPI-এর মাধ্যমে পিএফ ট্রান্সফার শুরু করার আগে, কর্মীদের নিশ্চিত করা উচিত যে তাদের UAN নম্বরটি সক্রিয় আছে। UAN সক্রিয় না থাকলে, পিএফ পরিষেবা, KYC যাচাইকরণ, টাকা তোলা এবং নতুন ডিজিটাল ফিচার ব্যবহারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পাসওয়ার্ড আপডেটআপনি যদি আপনার পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়ে থাকেন বা রেজিস্ট্রড  মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে থাকেন, তবে সেটিও আপডেট করে নিন। অন্যথায়, ইউপিআই ব্যবহার করে পিএফ তুলতে সমস্যা হতে পারে।

ব্যক্তিগত তথ্য আপডেট  করুন
পিএফ ক্লেমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলো নাম পরিবর্তন, জন্ম তারিখ বা ব্যক্তিগত তথ্যের অমিলের কারণে দেখা দেয়। EPFO-এর রেকর্ডে থাকা নাম, জন্ম তারিখ এবং অন্যান্য তথ্য আপনার আধার কার্ডের তথ্যের সঙ্গে অবশ্যই মিলতে হবে। এছাড়াও, আধার এবং প্যান উভয়ই আপনার UAN-এর সঙ্গে লিঙ্ক এবং যাচাই করা থাকতে হবে। যদি পিএফ অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা না থাকে, তাহলে টাকা তোলার সময় বেশি কর কাটা হতে পারে।

ব্যাঙ্ক  অ্যাকাউন্টের বিবরণ
UPI-ভিত্তিক টাকা তোলার জন্য আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। EPFO পোর্টালে দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, IFSC কোড এবং অ্যাকাউন্টধারীর নাম অবশ্যই সঠিক হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ থাকলে বা ভুল নাম বা নম্বর থাকলে, আপনার পেমেন্ট আটকে যেতে পারে। এছাড়াও আপনার অ্যাকাউন্টের UPI অ্যাক্টিভেশন এবং KYC আপডেটগুলো যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মোবাইল নম্বর আপডেট
 UPI লেনদেনের জন্য OTP-র মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে। তাই, আধার-এর সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর, UAN-এ রেজিস্ট্রেড মোবাইল নম্বর এবং UPI-এর সঙ্গে লিঙ্ক করা মোবাইল নম্বর অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে।

চাকরির রেকর্ড এবং নমিনি ব্যক্তি
কর্মচারীদের তাদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে নিজেদের সম্পূর্ণ চাকরির রেকর্ডও যাচাই করে দেখা উচিত। অনেক সময় চাকরি ছাড়ার তারিখ আপডেট করা হয় না, পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্টগুলো লিঙ্ক করা থাকে না, অথবা একাধিক পিএফ অ্যাকাউন্ট চালানো হয়। এর ফলে দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হতে পারে। মনোনীত ব্যক্তির তথ্যও আপডেট করা উচিত। পুরনো বা অসম্পূর্ণ নমিনি ব্যক্তির তথ্য জরুরি পরিস্থিতিতে দাবি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে।

সম্পূর্ণ টাকা তোলা যাবে
নতুন নিয়মে পিএফের গ্রাহকরা এখন তাদের এলিজেবল পিএফ ব্যালেন্সের ১০০ শতাংশই তুলতে পারবেন। অর্থাৎ এমপ্লয়ি ও এমপ্লয়ার- উভয়ের অনুদান থেকেই টাকা তোলা যাবে। এছাড়া অবসরের পর, ৫৮ বছর বয়স পার হলে বা কেউ যদি স্বেচ্ছাবসর  নেন, তাহলেও সম্পূর্ণ টাকা তোলা যাবে। এছাড়া যদি কোনও পিএফ গ্রাহক বিশেষভাবে সক্ষম হন, কাজ করতে অক্ষম হয়ে যান বা পাকাপাকিভাবে বিদেশ চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলেও পিএফ অ্য়াকাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়া যায়।

Advertisement

চাকরি চলে গেলে কত টাকা তুলতে পারবেন?
যদি কোনও কারণে চাকরি চলে যায়, কোনও ব্যক্তি বেকার হয়ে যান, তাহলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই পিএফ ব্যালেন্সের ৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তুলে নিতে পারবেন। যদি ১২ মাস পরও কোনও ব্যক্তি চাকরি না পান, তাহলে বাকি ২৫ শতাংশ টাকাও তুলে নেওয়া যায়। 

কী কী কারণে টাকা তুলতে পারবেন?
পিএফ থেকে এখন আংশিক টাকা তোলা এখন আরও সহজ হয়ে গিয়েছে। অসুস্থতা, শিক্ষা, বিয়ে বা বাড়ি তৈরির জন্য পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বাধিক ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তোলা যায়।  ১২ মাস চাকরি করলেই এখন পিএফ থেকে টাকা তোলা যায়। শিক্ষার জন্য সর্বাধিক ১০ বার টাকা তোলা যায়। বিয়ের জন্য সর্বাধিক ৫ বার টাকা তোলা যায়। নিজের জন্য, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবার চিকিৎসার জন্যও পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যাবে। ক্যানসার বা টিবির মতো রোগের জন্যও পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা যায়। একটি অর্থবর্ষে পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বাধিক তিনবার টাকা তোলা যায়।

POST A COMMENT
Advertisement