পিএফে স্যালারি লিমিটে বড় বদল।চাকরিজীবীদের জন্য বড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে EPF এবং এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিমের (EPS) আওতায় বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির জন্য বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম।
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে কী বদল হল? কোনও বেসরকারি সংস্থার কর্মীর বেসিক ও ডিএ মিলিয়ে মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে তাঁকে বাধ্যতামূলক ভাবে পিএফের পাশাপাশি ইপিএস, অর্থাৎ পেনশন স্কিমের সুবিধে দিতে হবে। এত দিন এই সীমা ছিল ১৫,০০০ টাকা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর দাবি, এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মী পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। কর্মীদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
শেষবার সীমা বাড়ানো হয়েছিল ২০১৪ সালে
অশ্বিনী জানান, কর্মীদের জন্য পিএফে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তির বেতনসীমা শেষ বার বাড়ানো হয়েছিল ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর। সে সময় মাসিক ৬,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫,০০০ টাকা করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে এই সীমা অপরিবর্তিত থাকার পর সেটি সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই বেতনসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
লাভবান হবেন ৫১ লক্ষ কর্মী
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মী উপকৃত হবেন। এর জন্য সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা। অশ্বিনী জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরেই বেতনসীমা বাড়ানোর দাবি উঠছিল। সেই দাবিই পূরণ করা হল।
হাতে পাওয়া বেতন কমবে না
বেতনসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করা হলেও কর্মীদের হাতে পাওয়া বেতন বা ইন-হ্যান্ড-স্যালারিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ পেনশন স্কিমে অতিরিক্ত যে টাকা লাগবে, তা কর্মীর বেতন থেকে আলাদা করে কেটে নেওয়া হবে না। নিয়োগকর্তা যে ১২ শতাংশ দেয়, তার মধ্য থেকেই এই অর্থ দেওয়া হবে। সংস্থার দেওয়া অবদানের ৮.৩৩ শতাংশ পেনশন তহবিলে জমা হবে এবং বাকি অংশ পিএফ অ্যাকাউন্টে যাবে। অর্থাৎ কর্মীর বেতন থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়ার বদলে নিয়োগকর্তার দেওয়া অংশের মধ্যেই এই হিসাব করা হবে।
সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য নিয়মিত আয় নিশ্চিত হবে।
বাড়ল সরকারি খরচ
বর্তমানে বছরে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ১০,২৫০ কোটি টাকা। নতুন ব্যবস্থায় সরকারের বার্ষিক খরচ প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা হতে পারে বলে অনুমান পাঁচ বছরে মোট আনুমানিক খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা।