ভারতের শেয়ারবাজার২৭ জানুয়ারি, ভারতের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিন ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিজেদের মধ্যে মুক্তি বাণিজ্য চুক্তিতে সহমত হয়েছে। যার ফলে ভারতের কাছে খুলে গেল ইউরোপের ২৭টি দেশের বাজার। সেখানে স্বদেশি পণ্য রফতানি অনেক বেশি সহজ হবে। আবার ইউরোপের দেশগুলিও ভারতীয় বাজারে চুটিয়ে ব্যবসা করতে পারবে। আর সেই কারণেই এই চুক্তিকে 'মাদার অব অল ডিল' বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইউরোপীয় কমিশনের চেয়ারম্যান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। আর এই চুক্তি সম্পর্কে ঘোষণার পরই চড়েছে ভারতের শেয়ার বাজার।
আজ সেনসেক্স খোলে ৮১৮৯২.৩৬ পয়েন্টে। আগের দিনের ক্লোজিং ৮১৮৫৭.৪৮ থেকে কিছুটা বেড়েই ওপেনিং হয়। আর সকাল ১০টায় সেটা পৌঁছে যায় ৮২৩০৮ পয়েন্ট। বেড়েছে প্রায় ৪৫১ পয়েন্ট।
ওদিকে আবার নিফটিও আজ ভালই শুরু করেছে। গতকাল এটি ক্লোজিং দিয়েছিল ২৫১৭৫ পয়েন্টে। আর আজ খোলেই ২৫২৫৮ পয়েন্টে। সকাল ১০টা নাগাদ এটি পৌঁছে যায় ২৫২৯৮ পয়েন্টে। বেড়েছে ১২১ পয়েন্ট।
এখন প্রশ্ন হল, ইউএর-এর সঙ্গে এই চুক্তির ফলে শেয়ারবাজার ঠিক কোন দিকে যাবে? এটি কি চড়তেই থাকবে, নাকি খারাপ সময়ও আসতে পারে? আর এই উত্তরটা আমাদের দিলেন বিশিষ্ট আর্থিক বিশেষজ্ঞ সমীরকুমার সেন।
তিনি আমাদের জানালেন, 'ভারতের উপর শুল্ক বসিয়ে রেখেছে আমেরিকা। তার মাঝেই ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে চুক্তি হল। যার ফলে ভারতের বস্ত্র, চামড়া, জুতো, চা-কফি, মশলা, খেলনা, রত্ন ও অলঙ্কারের ক্ষেত্রে বিপুল ছাড় মিলবে। কমে যাবে শুল্ক। বাড়বে রফতানি। অপর দিকে আবার ২৫ লক্ষ টাকার বেশি দামের গাড়ি থেকে শুরু করে ওয়াইন, স্পিরিট, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ওষুধের উপর শুল্ক কমাবে ভারত। যার ফলে ভারতের মতো দেশে এই সবের দাম কমে যাবে।'
স্টকের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
সমীরের কথায়, 'স্টকের উপর এই চুক্তির মিশ্র প্রভাব পড়তে পারে। প্রথমত, ইউরোপে তৈরি দামি গাড়ি এবার ভারতের মার্কেটে সস্তা হতে পারে। যার ফলে ভারতের মাহিন্দ্রা এবং টাটার মতো সংস্থারা একটু চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ইউরোপের মদ ভারতে কম দামে পাওয়া গেলে ভারতীয় অ্যালকোহলের চাহিদা কমতে পারে। সেই কারণে মদের সঙ্গে জড়িত কিছু স্টকের দাম পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার ইউরোপের ওষুধেও ছাড় মিলবে। যার ফলে ভারতীয় ওষুধে প্রস্তুতকারী সংস্থার শেয়ারে কিছুটা পতন আসতে পারে। তবে এই পতন খুব বেশি হবে না বলেই মনে হয়।'
কোনও স্টকই কি বাড়বে না?
নিশ্চয়ই বাড়বে বলে জানালেন সমীর। তিনি বলেন, 'ভারতের জন্য বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের বাজার খুলে গিয়েছে ভারতীয় মশলা থেকে শুরু করে চা-কফি, বস্ত্র, চামড়া, গয়নার জন্য। যার ফলে এই সব পণ্য রফতানি করা শেয়ারের দাম কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'
মার্কেট কোন দিকে মুভ করবে?
এই বিষয় নিয়ে খুব একটা আশার কথা শোনালেন না সমীর। তিনি বলেন, 'এই চুক্তির ফলে মার্কেটে খুব একটা পরিবর্তন হওয়া কঠিন। এখনও চারিদিকে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সোনা, রুপোর দাম। পৃথিবীতে যুদ্ধ যুদ্ধ গন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। আর সেই কারণেই মার্কেট অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। তাই এখন মার্কেটের দিকে নজর রাখা ছাড়া সত্যিই কোনও গতি নেই। শুধু এই চুক্তির উপর নির্ভর করে বিনিয়োগ করা চলবে না।'