FASTag ও AI-এর কামাল, গাড়ি দাঁড়াতেই হবে না, টোল পার হবে আরও মসৃণ

দেশের হাইওয়েগুলোর টোল প্লাজায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মেজাজ ও মাইলেজ দুটোই নষ্ট করার দিন শেষ। এখন, গাড়ির চাকা আর থামবে না, শুধু চলতেই থাকবে। টোল কেটে যাবে নিজে থেকেই। এর মানে হল, থামার কোনও প্রয়োজন নেই। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করছে সেখানে ক্যামেরা নম্বরটি পড়ে নেবে, টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।

Advertisement
FASTag ও AI-এর কামাল, গাড়ি দাঁড়াতেই হবে না, টোল পার হবে আরও মসৃণফাস্ট্যাগ

দেশের হাইওয়েগুলোর টোল প্লাজায় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মেজাজ ও মাইলেজ দুটোই নষ্ট করার দিন শেষ। এখন, গাড়ির চাকা আর থামবে না, শুধু চলতেই থাকবে। টোল কেটে যাবে নিজে থেকেই। এর মানে হল, থামার কোনও প্রয়োজন নেই। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করছে সেখানে ক্যামেরা নম্বরটি পড়ে নেবে, টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে, ডিসেম্বরের মধ্যেই এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবে দেখা যাবে, যাতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে পুরোপুরি বদলে দেবে। পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জেনে নিন।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনেক হাইওয়ে নির্বিঘ্ন এবং বাধামুক্ত টোল ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর ফলে গাড়ি নিয়ে ঘোরা আরও দ্রুত, সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হবে।

লজিস্টিকস পাওয়ার সামিট অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করি বলেন, দেশে লজিস্টিকস খরচ কমাতে উন্নত পরিকাঠামো অপরিহার্য। সরকার ডিসেম্বরের মধ্যে বেশ কয়েকটি হাইওয়ে বাধামুক্ত টোল ব্যবস্থা চালুর একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এতে টোল প্লাজায় সময় বাঁচবে এবং যানজট কমবে।

AI এবং FasTag-র মাধ্যমে নিজে থেকেই টোল কাটবে
এই নতুন ব্যবস্থাটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। এতে স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ (এএনপিআর) এবং আরএফআইডি-ভিত্তিক FasTag অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করবে, ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে টোল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। চালকদের কোথাও থামার প্রয়োজন হবে না।

যে কোনও যানবাহন নিয়ম না মানলে তাকে একটি ই-নোটিশ পাঠানো হবে। সময়মতো টাকা দিতে ব্যর্থ হলে FasTag স্থগিত এবং যানবাহন-সংক্রান্ত অন্যান্য জরিমানা হতে পারে। গড়করি বলেছেন, ভারত যদি বিশ্বশক্তি হতে চায়, তবে লজিস্টিক খরচ অবশ্যই একক অঙ্কে নামিয়ে আনতে হবে।

ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অফ টেকনোলজি মাদ্রাজ ও কানপুর এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট ব্যাঙ্গালোরের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, এক্সপ্রেসওয়ে এবং অর্থনৈতিক করিডোর নির্মাণের ফলে ভারতের লজিস্টিক খরচ ১৬ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। তারা উল্লেখ করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে এই খরচ প্রায় ১২ শতাংশ, যেখানে চিনে তা ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে।

Advertisement

সবুজ জ্বালানির ওপর জোর
গড়করি বলেন, ভারত তেলের চাহিদার ৮৭ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। প্রতি বছর প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করা হয়, যা দূষণও বাড়ায়। তাই, বিকল্প জ্বালানি এবং জৈব জ্বালানির প্রচার করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, সবুজ হাইড্রোজেনই ভবিষ্যতের জ্বালানি, কিন্তু এটিকে সাশ্রয়ী করতে হলে হাইড্রোজেন স্টেশনগুলির খরচ কমাতে হবে।

ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি। সরকারের লক্ষ্য হল দেশকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহনের খরচ কমানো একটি প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

POST A COMMENT
Advertisement