সংগৃহীত ছবিকলকাতায় এলপিজি সঙ্কট এখন চরম আকার নিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাচ্ছেন অটোচালকরা। সল্টলেকের সিটি সেন্টারের পেট্রোল পাম্পের সামনে দিনের পর দিন লম্বা লাইন, কেউ দু'রাত, কেউ আবার টানা এক দিন ধরে গাড়িতেই অপেক্ষা করছেন শুধুমাত্র গ্যাস পাওয়ার আশায়।
কিছুদিন আগেও এই সঙ্কট মূলত গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি করেছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলে পরিবহণ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অটোচালকদের অভিযোগ, শহরে কার্যত হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পেই এলপিজি মিলছে, তারমধ্যে সিটি সেন্টার পাম্পই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। ফলে গড়িয়া, রাজারহাট, মানিকতলা কিংবা নিউ টাউন থেকেও অটো নিয়ে চালকরা ছুটে যাচ্ছেন সেখানে।
চালকদের দুর্দশার ছবি আরও করুণ। কেউ গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাচ্ছেন, কেউ আবার মাটির উনুনে নিয়ে রান্না করছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। অনেকেই দু'রাত কাটানোর পর গ্যাস পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ বালিশ, মশারি পর্যন্ত সঙ্গে নিয়ে আসছেন,কারণ, একবার লাইন ছাড়লেই জায়গা হারানোর ভয়।
এই সংকটের ফলে রোজগারও মার খাচ্ছে। আগে যেখানে দিনে ১২-১৪টি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন অনেকেই পাঁচটির বেশি ট্রিপ করতে পারছেন না। অনেক স্ট্যান্ডেই অর্ধেকেরও কম অটো রাস্তায় নামছে, বাকিগুলো পাম্পের লাইনে আটকে।
এরসঙ্গে নতুন সমস্যার নাম ‘রেশনিং’। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি অটোতে প্রায় ১০ লিটার করে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। চালকদের কথায়, এতে এক দিনের বেশি গাড়ি চালানো সম্ভব নয়, ফলে প্রায় প্রতিদিনই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
এলপিজির দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত এক মাসে লিটার প্রতি প্রায় ১৩ টাকা বেড়ে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকার বেশি। ফলে আয় কমা ও খরচ বাড়া, দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন চালকরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে ভাড়া বাড়িয়েছেন। কোথাও ২ টাকা, কোথাও ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে ভাড়া। তবে এতে যাত্রীদের একাংশ বাস বা অন্য পরিবহণে ঝুঁকছেন।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদেরও ভোগান্তি কম নয়। অটো কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে, ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে রিকশা বা অন্য বিকল্প খুঁজছেন, যদিও তাতেও সময় বেশি লাগছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। সাধারণত ৬ টন এলপিজি তিন দিন চললেও এখন অর্ধেক সরবরাহ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভিড় সামলাতে পুলিশ পর্যন্ত ডাকতে হচ্ছে, কারণ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার জেরে চালকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, এলপিজি সঙ্কট এখন শুধু জ্বালানির সমস্যা নয়, এটি শহরের পরিবহণ, রোজগার এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড়সড় প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সেই প্রশ্নেই এখন তাকিয়ে সবাই।