কী ভাবে বানাবেন পিঙ্ক কার্ড? ১ অগাস্ট থেকে রাজ্যে চালু হয়ে গিয়েছে পিঙ্ক কার্ড। এই পাস দেখালে বিনামূল্যে সফর করা যাচ্ছে সরকারি বাসে । তবে ১ অগাস্ট থেকে চালু হয়ে গেলেও অনেক মহিলার কাছে এখনও পর্যন্ত পিঙ্ক কার্ড নেই। সেপ্টেম্বর মাসে কি সঙ্গে পিঙ্ক কার্ড না রাখলে ফ্রি পরিষেবা পাওয়া যাবে না?
সেপ্টেম্বরে পিঙ্ক কার্ড ছাড়া সফর করা যাবে?
পিঙ্ক কার্ড থাকলে অনায়াসে সরকারি বাসে ফ্রিতে যাতায়াত করতে পারবেন রাজ্যের মহিলারা। কিন্তু মুশকিল হল, আজকের দিনে দাঁড়িয়েও অনেক মহিলার কাছেই পিঙ্ক কার্ড নেই। এখন তাঁদের মনে প্রশ্ন, সেপ্টেম্বরে কি পিঙ্ক কার্ড লাগবে? নইলে বাসে ফ্রি পরিষেবা মিলবে না? তবে এই বিষয়টা নিয়ে সরকারের তরফে এখনও স্পষ্ট কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, এখনও পিঙ্ক কার্ড নিয়ে নতুন করে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। সরকার নতুন করে কিছুই জানায়নি। তাই এখনও পর্যন্ত যেই নিয়মে মহিলারা যাতায়াত করছেন, সেটাই কন্টিনিউ হতে পারে। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরেও যেই সব মহিলাদের কাছে পিঙ্ক কার্ড নেই, তাঁরা আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখিয়েই বিনামূল্যে বাসে উঠতে পারবেন। তবে নতুন নোটিফিকেশন এলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
রাজ্যে চালু হয়েছে পিঙ্ক কার্ড
নির্বাচনী ইশতেহারে অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি বিনামূল্যে বাসযাত্রার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বিজেপি সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর
রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগে চালু হয়েছে 'পিঙ্ক কার্ড'। মূলত ছাত্রী, মহিলা কর্মজীবী এবং নিত্যযাত্রীদের সুবিধার্থেই বিনা খরচে বাসযাত্রার এই ব্যবস্থা। এর ফলে শিক্ষা বা কাজের প্রয়োজনে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত মহিলাদের জন্য অনেকটাই সহজ হবে। পিঙ্ক কার্ড সঙ্গে থাকলে সরকারি বাসে যেমন বিনা মূল্যে চড়া যাবে, তেমনই যাওয়া যাবে দিঘা বা দার্জিলিংয়ের মতো দূরপাল্লার রুটেও।
যোগ্য মহিলারা এই সুবিধা পাবেন
এই প্রকল্পের সুবিধা মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল মহিলাদের জন্যই রাখা হয়েছে। উচ্চ আয়ের পরিবার, কর্মজীবী মহিলা যারা স্বেচ্ছায় এই সুবিধা নিতে চান না এবং অন্যান্য অযোগ্য বিভাগগুলিকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল যাতে সরকারি তহবিল সেইসব মহিলাদের কাছেই পৌঁছয় যাঁদের সত্যিই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন।
এই কার্ড বানাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-
অনলাইনে বা অফলাইনে পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় এই কাগজপত্র এবং তথ্যগুলি প্রয়োজন:
-আধার কার্ড (পরিচয়পত্র)
-ভোটার আইডি কার্ড (ঠিকানা/পরিচয়পত্র)
-পাসপোর্ট সাইজের ছবি
-রেজিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য আপডেটের জন্য সক্রিয় মোবাইল নম্বর।
পিঙ্ক কার্ড পেতে কীভাবে আবেদন করবেন?
পিঙ্ক কার্ডের জন্য অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করা যাবে। রয়েছে সহজ নিয়ম। দেখে নিন স্টেপ বাই স্টেপ।
অনলাইন আবেদনের পদ্ধতি-
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wb.gov.in-এ যান এবং হোমপেজে দেওয়া পিঙ্ক কার্ড বিকল্পে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার পুরো নাম এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। তারপর আধার কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথির স্পষ্ট ডিজিটাল কপি আপলোড করুন। সমস্ত তথ্য সাবধানে যাচাই করার পর 'সাবমিট' বোতামে ক্লিক করুন। বেদনপত্র জমা দেওয়ার পর, পরিবহন বিভাগের আধিকারিকরা আপনার নথি এবং তথ্য যাচাই করবেন। যাচাই সম্পন্ন হলে এবং আবেদনপত্র অনুমোদিত হলে, আপনাকে পিঙ্ক কার্ড ইস্যু করে দেওয়া হবে।
অফলাইন আবেদনের পদ্ধতি
আপনি যদি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাস করেন, তাহলে আপনার ব্লক উন্নয়ন অফিসে (বিডিও) যান। অন্যদিকে পৌর এলাকার বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট পৌর অফিসে আবেদন করতে পারেন। অফিস থেকে পিঙ্ক কার্ড আবেদনপত্র বা ফর্মটি সংগ্রহ করুন। ফর্মে চাওয়া সমস্ত তথ্য সাবধানে পূরণ করুন। আধার কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং মোবাইল নম্বরের সঙ্গে নথিপত্রের হার্ড কপি সংযুক্ত করুন। আবেদনপত্রটি সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিন, যার পরে সরকারি আধিকারিকরা নথিগুলি যাচাই করবেন। যাচাইকরণ সম্পন্ন হলে যোগ্য আবেদনকারীদের পিঙ্ক কার্ড ইস্যু করা হবে।