প্লাস্টিকের ডিমের সত্যিটা কী? প্লাস্টিকের চালের কথা অনেকেই শুনেছেন। এখন আবার প্লাস্টিকের ডিনমের কথা লোকমুখে ফিরছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। গুজবও ছড়াচ্ছে। কিন্তু প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি ডিম সম্পর্কে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা (FSSAI) তথ্য সামনে এনেছে।
FSSAI-এর দাবি, সংরক্ষণের পদ্ধতির কারণে ডিম আসলে প্লাস্টিকের মতো হয়ে যায়। আবার ডিম আনার সময় তা বিভিন্ন তাপমাত্রার মধ্যে পড়ে। এর ফলে ডিমের ভিতরে বাতাস প্রবেশ করে। তখন কুসুম এবং সাদা অংশ থেকে জল বাষ্পীভূত হতে শুরু করে।
FSSAI-এর যুক্তি, ডিমের খোসায় ২০,০০০ এরও বেশি ছিদ্র রয়েছে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। তবে ডিমের ওজন কমে গেলে সেগুলো দেখা যায়। ডিমের ভিতর জলের অভাব হলে সাদা অংশ এবং কুসুম সঙ্কুচিত হয়। তারপর ওই দুই অংশ মিশে যায়। ফলে সেই সময় ডিমকে ভাঙা হলে সাদা অংশ ও কুসুমকে আলাদা করা যায়। একে অপরের সঙ্গে যেন মিশে থাকে। তখনই তা নকল ডিম বা প্লাস্টিকের বলে মনে হয়।
ডিমকে দেখতে প্লাস্টিকের মতো কেন মনে হয়?
FSSAI বলছে, খোসা দেখেই বোঝা সম্ভব ডিমটি টাটকা কিনা। নকল ডিম বা প্লাস্টিকের বলে সন্দেহ হলে ডিমের খোসার টুকরোগুলিকে 2N হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী অ্যাসিডে ডুবিয়ে রাখুন। ডিমের খোসার প্রধান উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, অ্যাসিডে খোসাগুলিকে দ্রবীভূত করবে। একইভাবে, ভিনেগারে (যাতে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে) ডিম বা ডিমের খোসা রাখলে খোসাগুলি ধীরে ধীরে দ্রবীভূত হবে, বুদবুদ বের হবে এবং কখনও কখনও টুকরোগুলি ভেসেও উঠবে। এই অ্যাসিড দেওয়া খোসার সঙ্গে কোনও ঝিল্লি আটকে থাকবে না। বরং কাগজ বা পাতলা প্লাস্টিকের মতো দেখাবে।
প্লাস্টিকের ডিম যে নয়- তা কীভাবে বুঝবেন?