টাকা বেশি খরচ হলেও ক্ষতি নেই, বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনার আগে আর কী কী দেখছে Gen Z?

অর্থাৎ, আজকের ক্রেতা শুধু দেখছেন না বাড়িটি কতটা সস্তা। তাঁরা এটাও দেখছেন, সেই বাড়িতে থাকার ফলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন কতটা সহজ এবং উন্নত হবে।

Advertisement
টাকা বেশি খরচ হলেও ক্ষতি নেই, বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনার আগে আর কী কী দেখছে Gen Z?ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • আজকের ক্রেতারা শুধু বাড়ি বা ফ্ল্যাট দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না
  • তাঁরা পুরো এলাকাটি ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন

বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া এখন আর শুধু এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই যে, কত বাজেটের মধ্যে কত দামি বাড়ি কেনা সম্ভব। ভারতীয় রিয়েল এস্টেট বাজারে ক্রেতাদের পছন্দ ও অগ্রাধিকার দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন বাড়ির দাম এবং লোন পাওয়ার যোগ্যতার পাশাপাশি এটাও দেখছেন যে, তাঁরা কেমন পরিবেশে এবং কোন এলাকায় থাকতে চান। অর্থাৎ, বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত এখন আর শুধু চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের পরিকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা এবং জীবনযাত্রার মানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আজকের ক্রেতারা শুধু বাড়ি বা ফ্ল্যাট দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তাঁরা পুরো এলাকাটি ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন। এর জন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে সেই লোকেশনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে যাতায়াতের সময়, যানজট এবং গণপরিবহণের সংযোগ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি, আশপাশে স্কুল, হাসপাতাল, বাজার, পার্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কতটা সহজে পাওয়া যায়, সেটিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এলাকার আসল চিত্র বুঝতে বর্ষাকালও ক্রেতাদের কাছে এক ধরনের পরীক্ষার সময় হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় কোনও এলাকায় জল জমে কি না, নিকাশি ব্যবস্থা কতটা উন্নত, রাস্তার অবস্থা কেমন এবং বাড়িতে স্যাঁতসেঁতে বা জল ঢোকার সমস্যা রয়েছে কি না- এসব বিষয় সহজেই বোঝা যায়। সম্পত্তির ব্রোশিওর বা অনলাইন লিস্টিংয়ে এমন অনেক বাস্তব সমস্যা ধরা পড়ে না।

এর পাশাপাশি, পরিবর্তনশীল আবহাওয়া এবং বাড়তে থাকা জলবায়ু ঝুঁকিও বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। বন্যা, তাপপ্রবাহ এবং জলের সঙ্কটের মতো চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখে ক্রেতারা এখন ভাবছেন, আগামী বছরগুলিতে কোনও এলাকা বসবাসের জন্য কতটা নিরাপদ ও টেকসই থাকবে।

Millennials এবং Gen Z-র বদলে যাওয়া ভাবনা

এই পরিবর্তন বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে Millennials এবং Gen Z-র মধ্যে। BASIC Home Loan-এর ৭,৪০০-রও বেশি হোমবায়ারের উপর করা একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, বাড়ি ক্রেতাদের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশই এই দুই প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত।

Advertisement

তাঁদের কাছে সাশ্রয়ী বাড়ি মানে শুধু কম দামের বাড়ি নয়। এখন ক্রেতারা দেখছেন বাড়ির লোকেশন কেমন, অফিস বা কর্মস্থলে পৌঁছতে কতটা সময় লাগবে এবং আশপাশে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। সামান্য বেশি টাকা খরচ করে যদি ভালো লোকেশন, কম যাতায়াতের সময় এবং উন্নত জীবনযাত্রা পাওয়া যায়, তাহলে তার জন্য বেশি দাম দিতেও তাঁরা প্রস্তুত।

অর্থাৎ, আজকের ক্রেতা শুধু দেখছেন না বাড়িটি কতটা সস্তা। তাঁরা এটাও দেখছেন, সেই বাড়িতে থাকার ফলে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন কতটা সহজ এবং উন্নত হবে।

শহর বাড়ার সঙ্গে বদলাবে অগ্রাধিকার

ভারতে দ্রুত নগরায়নের ফলে এই পরিবর্তন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। World Bank-এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে তৈরি হতে চলা নতুন চাকরির প্রায় ৭০ শতাংশ শহর থেকে আসবে। অন্যদিকে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের শহুরে জনসংখ্যা ৯৫১ মিলিয়নে পৌঁছতে পারে। পাশাপাশি, ২০৭০ সালের মধ্যে ১৪৪ মিলিয়নেরও বেশি নতুন বাড়ির প্রয়োজন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

ফলে আগামী দিনে কোনও এলাকার মূল্য শুধু সেখানে বাড়ি কতটা বড় বা তার দাম কত, তার উপর নির্ভর করবে না। জলের পর্যাপ্ততা, উন্নত রাস্তা, শক্তিশালী নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, গণপরিবহণ, সবুজ পরিবেশ এবং আশপাশের সরকারি পরিকাঠামোও কোনও এলাকার মূল্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।

সব মিলিয়ে ভারতীয় হোমবায়ারদের চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন আসছে। এখন বাড়ি কেনা শুধু একটি সম্পত্তি কেনার সিদ্ধান্ত নয়। মানুষ এমন জায়গা বেছে নিতে চাইছেন, যেখানে প্রতিদিনের যাতায়াত সহজ, প্রয়োজনীয় পরিষেবা হাতের কাছে, পরিবেশ ভালো এবং ভবিষ্যতেও এলাকাটি বসবাসের উপযোগী থাকে।

অর্থাৎ, আগামী দিনে মানুষ শুধু বাড়ি নয়। ভালো লোকেশন, উন্নত পরিকাঠামো এবং আরও ভালো জীবনযাত্রা কিনতে চাইবেন।

POST A COMMENT
Advertisement