যাঁরা সোনা রূপো কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের জন্য এটি বেশ ভাল সুযোগ হতে পারে।Gold and Silver Prices Fall: সপ্তাহের শুরুতেই সোনা-রুপোর বাজারে ধস। এক লাফে প্রায় ৬ হাজার টাকা কমল রুপোর দাম। পাশাপাশি সোনার দামও পড়ল এক হাজার টাকারও বেশি। অর্থাৎ, যাঁরা সোনা রূপো কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের জন্য এটি বেশ ভাল সুযোগ হতে পারে। সামনেই অক্ষয় তৃতীয়া। তার আগে সোনার দাম কমায় খুশি সাধারণ ক্রেতারাও। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা MCX অনুযায়ী, গত শুক্রবার রুপোর দাম ছিল কেজি প্রতি প্রায় ২,৪৩,২৭৪ টাকা। সপ্তাহের প্রথম দিনেই তা নেমে এসেছে প্রায় ২,৩৭,১৯০ টাকায়। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ৬,০৮৪ টাকা কমেছে রুপোর দর। ফলে এখন রুপো অনেকটাই কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেই রুপোর দাম কেজি প্রতি ৪,৩৯,৩৩৭ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। অর্থাৎ, সেই সময় থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা কমে গিয়েছে রুপোর দর। ফলে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রুপো কেনার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের কাছে এটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু রুপো নয়, সোনার বাজারেও একই ছবি। শুক্রবার MCX-এ ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল প্রায় ১,৫২,৬৫২ টাকা। সোমবার বাজার খুলতেই তা নেমে আসে প্রায় ১,৫১,৪৫৭ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ১,১৯৫ টাকা কমে যায় সোনার দাম।
সোনার ক্ষেত্রেও প্রায় একই ট্রেন্ড। একসময় সর্বোচ্চ দাম ছিল প্রায় ২,০২,৯৮৪ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম। সেই তুলনায় এখন প্রায় ৫০ হাজার টাকারও বেশি কম দামে পাওয়া যাচ্ছে সোনা।
আন্তর্জাতিক অশান্তি থাকা সত্ত্বেও কেন কমছে সোনা-রুপোর দাম?
সাধারণত যুদ্ধ বা উত্তেজনার সময়ে মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা-রুপোর দিকে ঝোঁকে। এতে দাম বাড়ার কথা। কিন্তু এবার ঘটছে উল্টো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সোনা নয়, ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সোনা-রুপোর চাহিদা কিছুটা কমেছে।
দ্বিতীয়ত, অপরিশোধিত তেলের দাম ফের বাড়ছে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই হাতে নগদ টাকা রাখতে চাইছেন। তাই মূল্যবান ধাতু থেকে কিছুটা দূরেই থাকছেন বিনিয়োগকারীরা।