সোনা-রুপোর দামগত কয়েক বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে সোনার দাম। প্রায় ২ লাখ ছুঁইছুঁই হয়ে গিয়েছিল সোনার দাম। যদিও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনা ও রুপোর দাম কিছুটা হলেও কমেছে। সাধারণত যুদ্ধ শুরু হলে দেখা যায়, সোনা-রুপোর মতো ধাতুর দাম বৃদ্ধি পায়, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষের আবহে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে সোনা ও রুপোর দর।
সোনার দাম বর্তমানে সর্বোচ্চ রেকর্ড থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। এখন খবর এসেছে সোনার দাম আরও কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বছরের জানুয়ারিতে সোনার দাম প্রতি আউন্স ছিল ৫,৫৯৫ ডলার। তারপর থেকে কমেছে হলদে ধাতুর দাম। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে সোনার রেট।
যে ব্যক্তিরা চড়া দামের সোনা কিনেছেন, তাঁরা এখন ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিন্তু বর্তমানে দাম আরও কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এক সপ্তাহে সোনা ও রুপার দামে কতটা বদল এসেছে?
সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোনা ও রুপার দামে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে, সোনার দাম সামান্য বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,২২২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এদিকে, ভারতে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এমসিএক্স-এ সোনার দাম ১.১৭% বেড়ে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫০,৬৭৫ টাকায় লেনদেন করেছে।
সোনার দাম কেন কমতে পারে?
মানি কন্ট্রোলের তরফে জানানো হয়েছে, স্টেট স্ট্রিট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের কমোডিটি এক্সপার্ট আকাশ দোশি জানিয়েছেন, বর্তমানে সোনার ক্ষেত্রে দুটি চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। প্রথমত, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
UBS-এর অনুমান অনুযায়ী, সোনার দামে ক্রমাগত দুর্বলতা স্বল্প মেয়াদে তীব্র পতনের কারণ হতে পারে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে অদূর ভবিষ্যতে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৩,৮৫০-৪,০০০ ডলারে নেমে আসতে পারে।
সুদের হার বৃদ্ধির কারণে দাম কমতে পারে
মার্কিন ফেড-এর তরফে ক্রমবর্ধমান সুদের হার সোনার ঔজ্জ্বল্য ম্লান করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে।