২ লক্ষ টাকা ছাড়াবে সোনার দামগত কয়েক বছরে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে সোনার দাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও সোনা কেনার বিরাম নেই। আসলে বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে ভারতের মতো দেশে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়। ফলে দাম বাড়লেও সোনার চাহিদায় খুব বেশি ভাটা পড়েনি।
তবে দেশে সোনার চাহিদা মেটাতে পুরো ভরসাই থাকে আমদানির উপর। তাই ক্রমবর্ধমান চাহিদা সরাসরি আমদানি ব্যয়, চলতি হিসাবের ঘাটতি এবং রুপির উপর প্রভাব ফেলে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতীয়দের বাড়িতে সঞ্চিত সোনা দেশের আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারে কি না।
বিজনেস টুডে ইন্ডিয়া'স মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানিজ সামিট অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস-এর 'গ্রিন গোল্ড' অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, দেশে বাড়ি ও লকারে আনুমানিক ৩২,০০০ টন সোনা পড়ে আছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাজারে ফিরিয়ে আনা গেলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।
দাম বেশি থাকলেও সোনা কেনা কমেনি
মেহরাসন্স জুয়েলার্সের এমডি অজয় মেহরা জানান, যখন সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১.৭৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছিল। তখনও হলদে ধাতুর ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি। ফলে বর্তমান পর্যায়ে দাম ১.৫০ লক্ষ থেকে ১.৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকায় চাহিদা কমার সম্ভাবনা কম।
তিনি বলেন, আমদানি শুল্ক বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমবে না, বরং দুবাইয়ের মতো বাজার লাভবান হতে পারে। মেহরার মতে, দুবাই থেকে রফতানি হওয়া হাতে তৈরি গহনার প্রায় ৬০ শতাংশই ভারতীয় শৈলীর। তিনি শূন্য আমদানি শুল্কের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, এটি ভারতীয় শিল্পকে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার সুযোগ দেবে।
সোনার দাম কি ২ লক্ষ টাকায় পৌঁছতে পারে?
মুথুট এক্সিমের CEO কেয়ুর শাহ মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তিনি বলেন, গত দশকের প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, আগামী পাঁচ বছরে সোনার দাম দ্বিগুণ হতে পারে।
এছাড়াও, এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের ফাউন্ডার সুগন্ধা সচদেবার অনুমান, আগামী দুই বছরে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ২ লাখ টাকায় পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি অজয় মেহরাও বিশ্বাস করেন, দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম শক্তিশালী থাকবে।
GST ও করছাড় সোনার পুনর্ব্যবহার বাড়াতে পারে
কেয়ুর শাহ মনে করেন, সোনার পুনর্ব্যবহার বাড়াতে কর কাঠামোতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সোনা কেনার ওপর ৩ শতাংশ জিএসটি এবং বিক্রির ওপর করও মানুষকে সোনা বিক্রি করতে নিরুৎসাহিত করে।