অস্থিরতার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা-রুপোর দিকেই ঝুঁকে থাকেন। Gold Silver Price Fall India: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জের। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে সোনা-রুপোর বাজারে। তবে সেটাই স্বাভাবিক। সাধারণত যে কোনও অস্থিরতার সময়ে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা-রুপোর দিকেই ঝুঁকে থাকেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটানা এই দুই মূল্যবান ধাতুরই দাম পড়ছে। বুধবারও মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ সোনা ও রুপোর দামে বড় পতন ঘটল।
বুধবার এমসিএক্স-এ রুপোর ফিউচার ট্রেডিং শুরু হতেই আগের ক্লোজিং প্রাইস ২,৫৩,১১৩ টাকা প্রতি কেজি থেকে নেমে দাঁড়ায় ২,৪২,৮০৩ টাকায়। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় ১০,৩১০ টাকা কমে যায় ১ কেজি রুপোর দাম।
বছরের শুরু থেকে হিসাব করলে ছবিটা আরও স্পষ্ট। গত ২৯ জানুয়ারি রুপোর সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪,২০,০৪৮ টাকা প্রতি কেজি। সেই জায়গা থেকে এখন রুপো প্রায় ১,৭৭,২৪৫ টাকা সস্তা। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদে রুপোর বাজারে বড় সংশোধন দেখা যাচ্ছে।
সোনার ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। বুধবার এমসিএক্স-এ ২ এপ্রিল এক্সপায়ারির সোনার দাম আগের দিনের ১,৫৫,৯৮৫ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম থেকে নেমে দাঁড়ায় ১,৫১,৫৫০ টাকায়। অর্থাৎ, একদিনেই প্রায় ৪,৪৩৫ টাকা কমেছে ২৪ ক্যারাট সোনার দাম। শুধু তাই নয়, সোনার সর্বোচ্চ স্তর ১,৯৩,০৯৬ টাকা থেকে এখন তা প্রায় ৪১,৫৪৬ টাকা সস্তা।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারেও একই ব্যাপার। ইন্ডিয়ান বুলিয়ন জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ২৪ ক্যারাট সোনার দাম ছিল ১,৫৫,৬৬৮ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম, যা বুধবার কমে দাঁড়ায় ১,৫৪,৮৭৯ টাকায়। অন্যদিকে, ১ কেজি রুপোর দাম ২,৫২,৩৪০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২,৪৯,৯০৭ টাকা।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, IBJA-র দামে সারা দেশে সোনা-রুপোর বেস রেট একই থাকলেও গয়না কিনতে গেলে এর সঙ্গে জিএসটি ও মেকিং চার্জ যোগ হয়। ফলে গ্রাহকদের প্রকৃত খরচ আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বাজারে প্রশ্ন উঠছে; এই পতন কতদিন চলবে? বিনিয়োগকারীদের একাংশ এখন অপেক্ষা করছেন, দাম আরও কমবে কি না তা দেখার জন্য। আবার অনেকেই মনে করছেন, এই পতনেই নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সোনা-রুপোর দামে এই ধারাবাহিক পতন বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।