
ভারতের নতুন গ্র্যাচুইটির নিয়ম অনুযায়ী, কর্মচারীরা ৫ বছরের পরিবর্তে মাত্র এক বছরেই সুবিধা পেতে পারেন। তবে সবাই এই সুবিধা পাবেন না। নতুন শ্রম আইনের অধীনে এই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। কোন কর্মচারীরা এক্ষেত্রে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন?
ভারতে গ্র্যাচুইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা ৫ বছরের নিয়মিত চাকরির পর প্রদান করা হয়। শ্রম আইনে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে এখন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা মাত্র এক বছরের চাকরির পরেই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। এটি কর্মচারীর চাকরি ছাড়ার সময়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি আর্থিক সহায়তা কিন্তু কঠোর নিয়মকানুনের কারণে অনেক কর্মচারী এই সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারেন না।
বছরের পর বছর ধরে নিয়ম লক্ষ লক্ষ কর্মচারীকে তাঁদের গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত করেছে। গ্র্যাচুইটি পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের একটি কোম্পানিতে কমপক্ষে ৫ বছর এক টানা কাজ করতে হতো। এই নিয়মের আগে ৪ বছর ১১ মাস পরেও চাকরি ছেড়ে দিলে কোনও গ্র্যাচুইটি দেওয়া হতো না। এই নিয়মটি কর্মচারীদের বছরের পর বছর ধরে একটি বড় সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।
নতুন শ্রম আইনের অধীনে এই পরিস্থিতি এখন বদলে গিয়েছে। কিছু কর্মচারী এখন মাত্র এক বছর চাকরি করার পরেই গ্র্যাচুইটি পেতে পারেন। সামাজিক সুরক্ষা আইনের অধীনে প্রবর্তিত এই পরিবর্তনটি আধুনিক কর্মসংস্থানের প্রকৃতিকেই প্রতিফলিত করে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
নতুন নিয়মটি এক বা দুই বছর ধরে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মচারীদের আর্থিক সহয়তা প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাঁরা আর তাঁদের গ্র্যাচুইটি হারাবেন না। এক বছর চাকরি করার পর তাঁরা গ্র্যাচুইটির জন্য যোগ্য হবেন। আগে এটি শুধুমাত্র নিয়মিত এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
এই নিয়মের অসুবিধা
স্থায়ী বা নিয়মিত কর্মচারীরা এই পরিবর্তনের অন্তর্ভূক্ত নন। যদি একটি নিয়মিত পদে থাকেন, তবে পুরনো ৫ বছরের নিয়মটিই প্রযোজ্য হবে। এটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই সুবিধাটি সকল কর্মচারীর জন্য কার্যকর হচ্ছে না?
তবে নতুন নিয়মটির অর্থ এই নয় যে এক বছর পরেই সম্পূর্ণ অর্থ প্রদান করা হবে। পরিবর্তে চাকরির মেয়াদের উপর ভিত্তি করে আনুপাতিক গ্র্যাচুইটি গণনা করা হবে। সুতরাং যে কর্মচারী এক বছর কাজ করেছেন তিনি ৫ বছর কাজ করা কর্মচারীর চেয়ে কম গ্র্যাচুইটি পাবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তাঁদের খালি হাতে ফিরতে হবে না।
এখন থেকে মোট বেতনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মূল বেতন + ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা হতে হবে। যেহেতু গ্র্যাচুইটি এই উপাদানের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয় তাই মোট CTC এক থাকলেও মূল বেতন বেশি হলে গ্র্যাচুইটির পরিমাণও বেশি হবে।