Hilsa Fish Kolkata: বাজারে ভরা স্টোরের ইলিশ, কবে থেকে 'টাটকা' মাছ পাবে বাঙালি? জানাচ্ছে মৎস্যজীবীরা

Hilsa In Kolkata: কলকাতার বাজারে উঁকি মারলেই দেখা যাচ্ছে ইলিশের ছড়াছড়ি। কিন্তু খোঁজ নিলেই দেখা যাচ্ছে, সেই ইলিশ হয় স্টোরের মাছ। নইলে তা আসছে মুম্বাই বা মায়ানমার থেকে। তাহলে বাংলার ইলিশ কোথায়?

Advertisement
বাজারে ভরা স্টোরের ইলিশ, কবে থেকে 'টাটকা' মাছ পাবে বাঙালি? জানাচ্ছে মৎস্যজীবীরাকলকাতার বাজারে নেই 'টাটকা' ইলিশ
হাইলাইটস
  • ফি বছর এই সময়টা কলকাতার বাজার ছেয়ে যায় ইলিশে।
  • কলকাতা ও শহরতলির বাজারে যে ইলিশ মিলছে তা হয় চালানি, নইলে স্টোরের মাছ।
  • চলতি মরশুমের বাংলার বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা ইলিশ মাছ বাজারে কই?

ভরা বর্ষার মরশুম বঙ্গে। ফি বছর এই সময়টা কলকাতার বাজার ছেয়ে যায় ইলিশে। কিন্তু এবছর ইলিশ 'লাপতা'। কলকাতা ও শহরতলির বাজারে যে ইলিশ মিলছে তা হয় চালানি, নইলে স্টোরের মাছ। কিন্তু চলতি মরশুমের বাংলার বঙ্গোপসাগর থেকে ধরা ইলিশ মাছ বাজারে কই?

রহস্য খোলসা করল মৎস্যজীবী সংগঠন

কেন বাজারে চলতি সিজনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, সেই বিষয়টির উত্তর দিয়েছে মৎসজীবীদের সংগঠন। বাংলায় মূলত ইলিশ ওঠে ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ ও দিঘার সমুদ্র থেকে। কিন্তু জানা যাচ্ছে, এবারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় চলতি মরসুমে ইলিশের জোগান প্রত্যাশার তুলনায় বিপুল অংশে কম। বারবার খারাপ আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে মাছ ধরার কাজ ব্যাহত হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের এক মুখপাত্র।

কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজন মাইতি PTI-কে জানান, জুন থেকে অগাস্ট পর্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ট্রলারগুলি নিয়মিত গভীর সমুদ্রে যেতে না পারায় মৎস্যজীবীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 

উল্লেখ্য বিষয় হল, ইলিশের ভরা মরসুম থাকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। কিন্তু চলতি সিজনে এতদিন মাছ ধরা ধাক্কা খাওয়ায়  বর্ষার ভরা ইলিশ মরসুমে কলকাতার বাজারেও জোগানে প্রভাব পড়েছে। স্থানীয়ভাবে ধরা টাটকা ইলিশের জোগান সীমিত থাকায় দামও চড়া রয়েছে বলে জানান কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

তিনি বলেন, "হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পরিবর্তে বারবার নিম্নচাপের কারণে  খারাপ আবহাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্র মাছ ধরার কাজে প্রভাব ফেলেছে। ট্রলারগুলো সমুদ্রে বেশিদিন থাকতে পারছে না। ফলে ইলিশের জোগানও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে।" তাঁর দাবি, সমস্যা শুধু মাছ ধরার দিনের সংখ্যা কমে যাওয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। আবহাওয়ার পরিস্থিতির পাশাপাশি সমুদ্র ও নদীর জলপ্রবাহের পরিবর্তনও উপকূলীয় ও মোহনা এলাকায় ইলিশের গতিবিধিতে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজন মাইতি জানিয়েছেন, বর্ষায় বাংলায় ইলিশের চাহিদা সাধারণত অনেকটাই বেড়ে যায়। তার মধ্যেই চলতি মরসুমে এখনও পর্যন্ত ইলিশের উৎপাদন মাত্র ২০-২৫ হাজার টন হয়েছে। গত বছর এই সময় পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৭০ হাজার টন।

Advertisement

কবে নাগাদ পরিস্থিতি ঠিক হতে পারে?

আগামী দিনে আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদী মৎস্যজীবীরা। আবহাওয়া অনুকূলে এলে আরও বেশি সংখ্যক ট্রলার গভীর সমুদ্রে যেতে পারবে এবং ইলিশের জোগানও বাড়তে পারে বলে আশা তাঁদের।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement