কলকাতায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশজুন মাসের শেষের দিক থেকেই কলকাতার বাজারে দেখা মিলছিল ইলিশের। জামাইষষ্ঠী থেকে শুরু হয় চড়া দামে ইলিশ কেনা। এরপর বর্ষা আসতেই, ধীরে ধীরে কমে মাছের রাজার দর। কিন্তু এই সিজনে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি। জুলাই মাস থেকে টানা বৃষ্টি হলেও, এখনও কলকাতায় চড়া দামে বিকোচ্ছে ইলিশ। বড় আকারের ইলিশের দাম হাজার টাকারও বেশি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি কেন? খোঁজ নিল bangla.aajtak.in
শহরের মানিকতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বাবলু দাস জানান, শহরে যে মাছগুলি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সেগুলি মূলত ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ১০০ গ্রামের মধ্যে। বুধবার বাজারে এই মাছ বিক্রি হয়েছে ১০০০- ১২০০ টাকা কেজি দরে। আর এর চেয়ে বড় ১.২০০ কেজি থেকে ১.৩০০ কেজির মাছের দাম রয়েছে ১৫০০-১৬০০ টাকা।
এছাড়াও, শহরতলির অন্য মাছ বাজারগুলিতে মিলছে ছোট ইলিশও, তবে সেগুলি খোকা ইলিশ নয়। ৭০০-৯০০ গ্রামের ইলিশের দাম নিউব্যারাকপুর মাছের বাজারে রয়েছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। এছাড়াও, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশের কেজি রয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে এই মাছের বেশিরভাগটাই হিমঘরের মাছ।
কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিস ট্রেডারস অ্যাসোশিয়সনের সভাপতি বিজন মাইতি এ প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in -কে বলেন, "মূলত আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণেই বাজারে ইলিশের দাম এত চড়া রয়েছে। সমুদ্রে ট্রলার গিয়ে ২-৩ দিনের বেশি থাকতে পারছে না। ফলে কম মাছ নিয়েই তাঁদের ফেরত আসতে হচ্ছে। আবহাওয়ার কোনও ওয়ার্নিং না থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র উত্তাল হয়ে থাকছে। যার জেরে ফিরে আসছে ট্রলার। অল্প মাছ নিয়ে ফিরে আসার ফলে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ।"
তিনি জানান, কাকদ্বীপ পাইকারি বাজারেই এখন ইলিশের দাম চড়া। সমুদ্র থেকে আনা ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা কমলে দাম অনেকটা সস্তা হবে বলে আশা করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের একটা বড় অংশও এই সিজনে ইলিশ ধরতে গিয়ে হতাশার মধ্যে পড়ছেন। একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, বরগুনার উপকূল থেকে ইলিশ ধরতে গিয়ে অধিকাংশ ট্রলার ফিরছে লোকসান নিয়ে। জেলেদের দাবি, নদীতে পলি জমে যাওয়া, নতুন করে চর জেগে ওঠা ও সমুদ্রের পরিবেশ বদলে যাওয়ার কারণেই তাঁদের জালে কম উঠছে ইলিশ।
প্রতিবছরই রাজনৈতিক সৌজন্যতার প্রতীক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও অসমে ইলিশ পাঠায় ঢাকা। সাধারণ ভাবে পুজোর আগে সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতায় আসে বাংলাদেশের ইলিশ। এই বছরে বাংলাদেশে এত কম ইলিশ ধরা পড়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কোনওপক্ষই এখনও এ বিষয়ে কিছু জানাতে চায়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।