৭৩০-এর নীচে সিবিল থাকলে পাওয়া যাবে না লোন?লোন সংক্রান্ত নিয়মে বিরাট পরিবর্তন আনল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। ৭৩০-এর নীচে সিবিল স্কোর থাকলে এবার লোন পেতে গেলে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে লোন গ্রাহকদের। হোম লোন, অটো লোন বা এডুকেশন লোন পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। অথবা ৭৩০-এর নীচে স্কোর থাকলে অনেক বেশি সুদের হারে ঋণ নিতে হবে।
উদ্বেগের বিষয় হল, দেশে প্রায় ৬২ শতাংশ ঋণ আবেদনকারীর CIBIL স্কোর ৭৩০-এর নীচে। ফলে আগামী বছর থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের জন্য বাড়ি, গাড়ি এবং শিক্ষা ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলো অতিরিক্ত গ্যারান্টি বা জামানতও চাইতে পারে।
১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নতুন নিয়ম লাগু হবে
নতুন নিয়মের আওতায় কোনও কোনো গ্রাহক ঋণের ৯০ দিন EMI মিস করলে ব্য়াঙ্ককে সেই অর্থের ১২ গুণ পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখতে হবে। এই ফান্ড তৈরির অর্থ হল ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শীট থেকে এই পরিমাণ টাকা কমে যাবে, যার ফলে ব্যাঙ্কগুলোর মুনাফা প্রায় ৪২,০০০ কোটি টাকা কমে যেতে পারে।
প্রিমিয়াম গ্রাহকদের দিকে ব্য়াঙ্ক বেশি ফোকাস দেবে
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর যে গ্রাহকদের সিবিল স্কোর খারাপ ব্যাঙ্ক তাঁদের থেকে অনেক বেশি সুদের হারে ঋণ অফার করতে পারবে। অন্যদিকে, যাদের ক্রেডিট স্কোর ভালো, তাঁদের সুদের হারে অনেক ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই কারণে ৭৩০-এর বেশি সিবিল থাকলে সেই গ্রাহকদের দিকে ব্যাঙ্ক বিশেষ ভাবে দৃষ্টি রাখবে। একটি হিসেব বলছে, দেশে প্রায় ৭ কোটি গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর রয়েছে ৭৩০-এর বেশি।
ব্যাঙ্কগুলি কীভাবে কোনও গ্রাহককে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি হিসেবে বুঝবে?
Expected Credit Loss- নিয়মের আওতায়, ব্যাঙ্কগুলো গ্রাহকের বর্তমান পরিশোধের অবস্থা ছাড়াও আরও কয়েকটি দিকও বিশ্লেষণ করবে। সেগুলি হল-
সাধারণ গ্রাহকদের উপর কী প্রভাব পড়তে চলেছে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী করতে ও ঝুঁকি আগে থেকেই সনাক্ত করে ECL একটি বড় পদক্ষেপ। যাদের ক্রেডিট স্কোর দুর্বল, তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিপদের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ গ্রাহকদের সময়মতো EMI পরিশোধ, নিয়মিত ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধ এবং ঋণের পরিমাণ কম রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
এছাড়াও,ভালো CIBIL স্কোর রাখাও এখন থেকে অভ্য়াস করতে হবে। কারণ দুর্দান্ত সিবিল স্কোর কম সুদে লোন এবং সহজে ঋণের অনুমোদনের চাবিকাঠি হতে পারে। আগামী বছরের ১ এপ্রিল থেকে এই নিয়ম কার্যকর হলে, ব্যাঙ্কগুলোর লোন দেওয়ার কৌশলে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তখন লোন দেওয়ার আগে গ্রাহকের আগের লোনের গুণমান এবং ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।