নমিনি ছাড়া মৃত্যুর পর কীভাবে FD-র অর্থ দাবি করা যায়?ফিক্সড ডিপোজিটে (FD) বিনিয়োগকে একটি নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে বিনিয়োগ করলে মেয়াদপূর্তিতে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়, যা এটিকে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। ব্যাঙ্কগুলোও সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় প্রবীণ নাগরিকদের কিছুটা বেশি হারে সুদ দিয়ে থাকে। একারণেই দাদু-ঠাকুমা ও প্রবীণ নাগরিকরা তাদের সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এফডিতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। তবে সমস্যা দেখা দেয় যখন তাদের মৃত্যুর পর পরিবার এই বিনিয়োগগুলো সম্পর্কে অবগত থাকে না অথবা তাদের উইলে এগুলোর উল্লেখ থাকে না।
যদি মৃত ব্যক্তি হিন্দু হন, তবে ১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হয়। এই আইন অনুসারে, প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী, যেমন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং মা, সম্পত্তিতে সমান অংশ লাভ করেন। যদি কোনও পুত্র বা কন্যা ইতোমধ্যে মারা গিয়ে থাকেন, তবে তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিরাও সমান অধিকার লাভ করেন। কখনও কখনও নাতি-নাতনিরা উত্তরাধিকারী হবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চিত থাকেন, কিন্তু আইনে তাদের সমান অংশের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
নমিনি থাকা কেন প্রয়োজন?
যদিও ফিক্সড ডিপোজিটে (FD) নমিনি থাকা একটি সাধারণ বিষয়, তবে এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে নমিনি ফান্ডের মালিক নন। তিনি একজন ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করেন, যার দায়িত্ব হলো বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ফান্ডের অর্থ বিতরণ করা। ব্যাঙ্কগুলো সাধারণত নমিনির কাছে মালিকের ডেথ সার্টিফিকেট, কেওয়াইসি (KYC) নথি, এফিডেবিট এবং ক্ষতিপূরণ বন্ডের মতো কাগজপত্র চেয়ে থাকে। শুধুমাত্র এরপরই ফান্ড উত্তোলন করা যায়।
নমিনি না থাকলে কী হবে?
যদি এফডি-তে কোনো নমিনি না থাকে বা নমিনি ইতোমধ্যে মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে বিনিয়োগের মেয়াদ শেষ হয় না। এমন ক্ষেত্রে, আইনসম্মত উত্তরাধিকারী সরাসরি ব্যাঙ্কের কাছে দাবি জানাতে পারেন। তাদের অবশ্যই ডেথ সার্টিফিকেট, আইনসম্মত উত্তরাধিকারী সনদ, সকল উত্তরাধিকারীর কেওয়াইসি (KYC) নথি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু যদি কাগজপত্র ঠিক থাকে, তাহলে বিনিয়োগের অর্থ দাবি করে তুলে নেওয়া সম্ভব।