স্ক্রিন টাইম নিয়ে কী পরামর্শ মোদীর?আজ শিক্ষক দিবস। আর এই দিন শিক্ষকদের বিরাট পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি শিক্ষকদের পাঠ্যবই এবং সিলেবাসের বাইরে বেরিয়ে পড়ুয়াদের জীবনে প্রবেশের পরামর্শ দিলেন। সেই সঙ্গে পড়ুয়াদের সমস্যা এবং আগ্রহের জায়গাগুলি বোঝার কথাও বললেন এছাড়া কীভাবে পড়ুয়াদের স্ক্রিন আসক্তি, রিল আসক্তি ও গেম আসক্তি থেকে বের করে আনা যায়, সেই পথও বাতলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষক দিবসে লোক কল্যাণ মার্গে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, 'আমাদের বই থেকে বেরোতে হবে। সিলেবাসের গণ্ডি থেকে বেরোতে হবে। শিশুদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।'
তাঁর মতে, ছোটবেলার কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং মন খুলে শেখার মানসিকতা যাতে হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে শিক্ষকরদেরই। এটাই শিক্ষকদের কাজ।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'শৈশবকে হারিয়ে যেতে দেওয়া চলবে না। আর শৈশবকে ধরে রাখার সবচেয়ে বড় কাজটি একজন শিক্ষকই করতে পারেন।'
শিশুর প্রতিভা খুঁজে বের করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী মতে, শিক্ষকদের শুধু পড়ানোর মধ্যেই আবদ্ধ থাকলে চলবে না। সেই সঙ্গে যেই পড়ুয়ারা পড়াশোনায় খুব ভাল ফল করতে পারছে না, তাদের প্রতিভা খুঁজে বের করতে হবে।
মোদীর প্রশ্ন, 'হতে পারে কোনও শিশু পড়াশোনায় ভাল নয়। কিন্তু ঈশ্বর প্রত্যেককে কোনও না কোনও শক্তি দিয়েছেন। আপনারা কি তার প্রতিভা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন?'
অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে কীভাবে?
পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে স্ক্রিন টাইম। একটা বড় অংশের পড়ুয়া মোবাইলে রিল এবং গেমসে ব্যস্ত। সেই অর্থে মোবাইলেই ঢুকে যাচ্ছে শৈশব। তাই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, শিশুদের ডিজিটাল ডিভাইসে বেশি সময় কাটানোর প্রবণতা কমাতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোগী হতে হবে। স্ক্রিন টাইম কমাতে খেলাধুলা, শারীরিক কসরত এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে ছোটদের উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই স্ক্রিন টাইমের নেশা কমবে বলে মনে করেন তিনি।
পড়ুয়াদের জীবনের সঙ্গে জুড়তে হবে
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শিশুদের সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। তাঁর মতে, শুধু সিলেবাস শেষ করা বা পড়ুয়াদের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করলে চলবে না। বরং পড়ুয়াদের জীবনে প্রবেশ করতে হবে। তাদের সমস্যা জানতে হবে। তাদের দক্ষত জানতে হবে। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে।
এই দিন জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সাফল্য কামনা করেন। সেই সঙ্গে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের বৃহত্তর দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।