রেলমন্ত্রীর কাছে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত ট্রেনলাইন চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী,সাগরদ্বীপবাসীর মনে আশার জোয়ার। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রত্যাশা মুড়িগঙ্গার উপর সেতু তৈরি নিয়ে। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে সেই আশা পূরণ হয়নি। রাজ্যের নতুন সরকারের প্রধান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন ২০২৯-এ এই ব্রিজের উদ্বোধন করবেন তিনি। এছাড়াও, দ্বীপে কপিলমুনির আশ্রমে যাতে সকলে যেতে পারেন, তার জন্য রেললাইন বসানোর আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে এই প্রস্তাব দেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী বলেছেন?
রেলমন্ত্রীর কাছে নিজের আর্জি জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অশ্বিনীজি আপনি কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে রামেশ্বরম পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন। বাংলার জন্য আপনাকে একটা জিনিস করতেই হবে। গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেল লাইন চাই। টানেল করে নিয়ে যান বা ফ্লোডিং করে। আমাদের গঙ্গাসাগর যাওয়ার জন্য রেল লাইন চাই। গঙ্গাসাগর আমাদের আস্থার জায়গা। মুড়িগঙ্গার উপর আমি ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেছি। ২০২৯ পর্যন্ত ব্রিজের কাজ হয়ে যাবে। আপনি সার্ভে টিম পাঠিয়ে গঙ্গাসাগরকে রেল মানচিত্রে জুড়ে দিন।"
ঠিক কীভাবে রেলপথে জুড়তে পারে সাগরদ্বীপ?
সাগরদ্বীপের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে অন্তরায় হয়ে রয়েছে মুড়িগঙ্গা নদী। একেবারে বঙ্গোপসাগরে মোহনার কাছাকাছি এই অঞ্চল হওয়ায় নদীতে ঢেউ থাকে ব্যাপক। সেই নদীই নৌকো, ভেসেল করে পারাপার করেন স্থানীয়রা। এছাড়াও, পর্যটকদেরও একমাত্র ভরসা এই নদী পারাপার। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতেই মুড়িগঙ্গা সেতু তৈরি এবং একটি ট্রেনলাইন পাতার প্রস্তাব দিয়েছেন শুভেন্দু।
তবে কাজটা সহজ নয় মোটেই। আবার অসাধ্যও নয়। ঠিক কীভাবে মুড়িগঙ্গাকে হারাতে পারে রেল। পূর্ব রেলের এক সিনিয়র কর্তা এ প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in কে জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে ৩টি অপশন হতে পারে। প্রথমটি হল আন্ডার ওয়াটার রেললাইন, দ্বিতীয়টি হল ব্রিজের উপর দিয়ে গাড়ির পাশাপাশি ট্রেন লাইনের ব্যবস্থা অথবা আলাদা করে রেলের জন্য ব্রিজ করা।
এ প্রসঙ্গে ওই আধিকারিক জানান, বিষয়টি অসম্ভব নয়। হাওড়াতেই তো আন্ডার ওয়াটার মেট্রো চলছে। অথবা বালিব্রিজের মতো মুড়িগঙ্গা ব্রিজ তৈরি হলে তার উপর দিয়েও ট্রেন চালানো সম্ভব হতে পারে। এছাড়াও আলাদা ব্রিজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখনও অনেকটা প্রাথমিক স্টেজে প্রস্তাবিত স্তরে রয়েছে। রেলের তরফে সার্ভে টিম এসে, সমীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দিলে অবস্থা কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে বলে জানান তিনি।