জওয়াকিংফোন আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত এই যন্ত্রের স্ক্রিনেই থাকেই চোখ। এমনকী অনেকে হাঁটতে হাঁটতে বা রাস্তা পারাপারের সময়ও কানে ফোন রাখেন। এমনকী কেউ কেউ আবার ফোন স্ক্রল করতে করতে পার হন রাস্তা। আর তাতেই নিজের বিপদ ডেকে আনেন। দুর্ঘটনার ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই রাস্তা পারাপারের সময় সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল কানে নিয়ে বা স্ক্রিনে চোখ রেখে পার হবেন না।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, কলকাতা শহরের বেশ কিছু ক্রসিং এবং রাস্তা পারাপারের সময় আরও সাবধান হতে হবে। নইলে ট্র্যাফিক পুলিশ ফাইন করতে পারেন।
কেন ফাইন করা হয়?
এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের এক সার্জেন জানালেন, মোবাইল নিয়ে রাস্তা পারপার হওয়াটা কোনও কাজের অভ্যাস নয়। এই কারণে বড়সড় দুর্ঘটনা হতে পারে। তাই ফাইন করা হয়।
পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়ে রাখেন যে, এই ফাইন কলকাতা পুলিশ আইনের অধীনে করা হয়। এর সঙ্গে মোটর ভেহিকেল অ্যাক্টের কোনও যোগ নেই।
এমনটা কেন করা হয়, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই তিনি। এই সার্জেন জানান, আসলে কানে ফোন নিয়ে হাঁটাটা সরাসরি কোনও যানবাহনের সঙ্গে যুক্ত আইন অমান্য নয়। তাই এটা মোটর ভেহিকেল অ্যাক্টের মধ্যে পড়ে না। কলকাতা পুলিশের আইনে ফাইন করা হয়।
নির্দিষ্ট জায়গায় ফাইন নেওয়া হয়
শহরের সব রাস্তা বা ক্রসিংয়ে এই ফাইন লাগু হয় না। বরং এটা শহরের ব্যস্ততম কিছু ক্রসিং পারাপারের ক্ষেত্রেই ফাইন নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কেসি দাসের ক্রসিং, হাইল্যান্ড পার্কের ক্রসিং সহ একাধিক জায়গায় নেওয়া হয় ফাইন।
নির্দিষ্ট সাইন দেওয়া থাকে
এই সার্জেন জানালেন, কলকাতার যেই সব রাস্তায় এই ফাইন করা হয়, সেখানে নির্দিষ্ট সাইন থাকে। এই সাইনকে 'জওয়াকিং' (Jaywalking) চিহ্ন বলা হয়। আর এই ফাইনকে বলা হয় জওয়াকিং ফাইন।
কত টাকা ফাইন করা হয়?
এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাফিক সার্জেন জানালেন, ফাইন হতে পারে ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।
তাই ফাইন দেওয়ার ইচ্ছে থাকলে না এখন থেকেই ফোন কানে নিয়ে পারাপার হওয়ার ভুল করবেন না। এমনকী স্মার্টফোনে চোখ রেখেও ক্রসিং পেরবেন না। আর যদি ফাইনের চিন্তা নাও করেন, তাহলে নিজের ভাল ভেবেই এই নিয়মটা মেনে চলুন। তাহলেই বিপদ এড়াতে পারবেন।