রিটায়ারমেন্টের জন্য কত টাকা সেভিংসএখন অধিকাংশ মানুষই বেসরকরি চাকরি করেন। আর এই ধরনের চাকরিতে নেই মোটা টাকার পেনশন। শুধু পিএফ থেকে নামমাত্র পেনশন পাওয়া যায়। আর সেটা দিয়ে দিন চলে না। তাই এখন চাকরি জীবনের একদম প্রথম থেকেই রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং করতে হবে। প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ম করে তুলে রাখা মাস্ট।
এখন প্রশ্ন হল, হেসেখেলে অবসর জীবন কাটানোর জন্য ঠিক কতটা পরিমাণ টাকা প্রতিমাসে জমাতে হবে? সেই উত্তরটা জানতে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট এবং Manasi Research Foundation-এর চেয়ারম্যান মানসকুমার ঠাকুরের সঙ্গে।
তাঁর মতে, চাকরি শুরুর সময় থেকেই টাকা জমাতে হবে। সেভিংসটাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তাহলেই যে কোনও ধরনের বিপদ থেকে এড়িয়ে চলা যাবে।
মানসকুমার ঠাকুরের কথায়, 'রিটায়ারমেন্ট আমাদের জীবনের একটা পার্ট। কিন্তু তার আগে আমাদের ছেলে-মেয়েদের পড়ানো, বাবা-মায়ের চিকিৎসা, নিজের চিকিৎসা সহ একাধিক বিষয় রয়েছে। তাই সব মিনিটে সেভিংস হল মাস্ট। নইলে যে কোনও সময় বিপদ বাড়বে।'
কত টাকা জমানো মাস্ট?
এই হিসেবটা দিলেন এই বিশিষ্ট কস্ট অ্যাকাউন্টেন্ট। তিনি বলেন, 'প্রতি মাসে আয়ের অন্তত ১৫ শতাংশ সেভিংস করতে হবে। যদি কারও ২০ হাজার টাকা বেতন হয়, তাহলে ৩ হাজার টাকা জমানো মাস্ট। এভাবেই কারও যদি ১ লক্ষ টাকা বেতন হয়, তাহলে ১৫ হাজার টাকা জমাতে হবে। জমানোটা একটা হ্যাবিটে পরিণত করতে হবে। তাতেই ভবিষ্যতের বিপদ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।' তিনি আরও জানান, অন্তত ১৫ শতাংশ জমাতে হবে। তবে ভাল হয় যদি ২০ শতাংশ বা তার বেশি সেভিংস করা যায়।
টাকা রাখার প্ল্যানিং দরকার...
শুধু টাকা জমালেই হবে না, টাকাটা কীভাবে সেভিংস করছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে মানসকুমার বলেন, 'স্বল্পমেয়াদী কিছু টাকা রাখতে হবে। যখন তখন লাগতে পারে, ছয় মাস বাদে লাগতে পারে, দু'বছর বাদে লাগতে পারে, তার জন্য একটা টাকা রোল করাতে হবে। আবার একটা টাকা দীর্ঘমেয়াদে রাখতে হবে। ছেলে-মেয়ে যখন বড় হবে, তখনকার জন্য এটা প্ল্যান করুন। শেষ ভাগে রিটায়ারমেন্টের টাকা রাখতে হবে।'
কোথায় বিনিয়োগ?
এই বিশেষজ্ঞের মতে, টাকা কোনও এক জায়গায় রাখলে হবে না, বরং একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ এফডি থেকে শুরু করে এসআইপি, পিপিএফ ও সোনা রুপোয় ইনভেস্ট করা যেতে পারে বলে জানালেন তিনি। তবে কোনও বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতেও বললেন তিনি। আশা করছি, এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই আপনি অনায়াসে হেসেখেলে রিটায়ারমেন্ট কাটিয়ে ফেলতে পারবেন।