নতুনরা অন্নপূর্ণা যোজনায় এভাবে নাম লেখানপশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জারি করা হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বিজ্ঞপ্তি। সেখানে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে আগে যাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল, সেই সব প্রাপকরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবেন। কিন্তু যাঁদের লক্ষামীর ভাণ্ডার নেই, তাঁরা কী করবেন? সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান হয়েছে নতুন আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে । এই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করা যাবে।
রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে প্রতি মাসে মহিলারা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, তাঁদের নাম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। যাঁরা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্প করেননি, তাঁরাও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। যাঁরা আবেদন করবেন তাঁদের বয়স হতে হবে ২৫-৬০ বছরের মধ্যে। আগামী ১ জুন থেকে পোর্টাল খুলবে। সেখানে আবেদন করতে হবে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পে যে আবেদন হবে, সেইগুলির সরকারি অনুমোদন বিডিও যাচাই করবেন গ্রামে, মহকুমাশাসক করবেন শহরে। কলকাতা পুরসভা এলাকায় যাচাই করবেন পুরসভার আধিকারিকেরা।
আগামী ১ জুন থেকে পোর্টাল খুলবে। সেখানে আবেদন করতে হবে। অনুমোদিত আবেদনগুলি পোর্টালে আপলোড করা হবে। আবেদনের পরে খতিয়ে দেখা হবে। তার পরেই তাঁরা তাঁদের ব্যাক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলা সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে এই টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে। এর জন্য আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের যে কোনও মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় আর্থিক সুবিধা পাবেন, এমনটা নয়। আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার এবং কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীরা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন না। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার অনুমোদিত শিক্ষক, অশিক্ষক, পুর ও পঞ্চায়েত কর্মীদের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আওতার বাইরে রেখেছে প্রশাসন। এ রাজ্যের আয়করদাতা কোনও মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’য় আবেদন করতে পারবেন না। ২০২৬ সালের SIR অনুসারে, যাঁরা মৃত, বাদ পড়েছেন, অনুপস্থিত, তাঁরা পাবেন না। তবে ট্রাইবুনালে যাঁদের আবেদন রয়েছে, নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পাবেন। রাজ্যের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে সব মহিলার বয়স ২৫ বছরের কম বা ৬০ বছরের বেশি, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে মানতে হবে একগুচ্ছ নিয়ম। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রায় ১০টি শর্ত পূরণ করলে তবেই মিলবে এই ভাতার টাকা।
কারা পাবেন এই স্কিমের সুবিধা?
আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পারিবারিক বার্ষিক আয় হতে হবে ২.৫ লক্ষ টাকার কম। এর বেশি আয় হলে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। আবেদনকারীর নামে কোনও পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকলে তিনি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।
আবেদন করতে যা লাগবে
আবেদনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে নবান্ন বেশ কিছু নথিপত্র বাধ্যতামূলক করেছে। সেগুলি হল-
বৈধ রেশন কার্ড: আবেদনকারীর একটি বৈধ রেশন কার্ড থাকা জরুরি।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও আধার সংযোগ: নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। লিঙ্ক না থাকলে টাকা ঢুকবে না।
আধার ও মোবাইল নম্বর: আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত থাকতে হবে।
আবেদনপত্রের সঙ্গে রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রতিলিপি, আয়ের শংসাপত্র , বসবাসের প্রমাণপত্র এবং সক্রিয় মোবাইল নম্বর জমা দিতে হবে। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, আবেদন জমা পড়ার পর প্রতিটি তথ্য নিবিড়ভাবে যাচাই বা স্ক্রুটিনি করা হবে। সমস্ত শর্ত ও নথি ঠিক থাকলে তবেই মিলবে সবুজ সংকেত।