গ্রাফিক্সIPL cheerleader application process: আইপিএলের ঝলমলে মঞ্চে চিয়ারলিডারদের উপস্থিতি যেন আলাদা মাত্রা যোগ করে। ব্যাটে চার-ছক্কা পড়লেই স্টেডিয়ামের উল্লাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচ, সঙ্গীত আর রঙিন পারফরম্যান্স, সব মিলিয়ে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়। তবে এই গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতা।
ইন্ডিয়ার প্রিমিয়ার লিগ চিয়ারলিডার হওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট আবেদনপত্র বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি নেই। এমনকি বিসিসিআইও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন কোনও নির্দেশিকা দেয় না। আসলে, আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সরাসরি চিয়ারলিডার নিয়োগ করে না, এই দায়িত্ব থাকে বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার ওপর।
এই সংস্থাগুলিই দেশ-বিদেশ থেকে পেশাদার নৃত্যশিল্পী ও পারফর্মার বেছে নেয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটা রিয়েলিটি শোর মতো। প্রথমে অনলাইন কাস্টিং বা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন, তারপর নাচের অডিশন বা ভিডিও জমা, ফিটনেস ও স্ট্যামিনা পরীক্ষা, এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি ও অভিব্যক্তির মূল্যায়ন। সবকিছু পেরিয়ে চূড়ান্ত তালিকা ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে পাঠানো হয়, তারপরই চুক্তি স্বাক্ষর।
এই কারণে শুধু সুন্দর চেহারা নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী নৃত্যদক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং মঞ্চে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতা।
আইপিএলে বিদেশি চিয়ারলিডারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হওয়ার পেছনেও রয়েছে বাস্তব কারণ। আন্তর্জাতিক বিনোদন শিল্প অনেক বেশি সংগঠিত এবং তাদের কাছে বিশ্বজুড়ে প্রশিক্ষিত পারফর্মারদের বড় ভাণ্ডার রয়েছে। যদিও ভারতীয় শিল্পীদের জন্যও সুযোগ আছে, তবে সেখানে পৌঁছতে হলে পেশাদার প্রশিক্ষণ ও সঠিক যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি।
পারিশ্রমিকের দিক থেকেও এই পেশা মোটেই খারাপ নয়। শিল্প সূত্রে জানা যায়, প্রতি ম্যাচে একজন চিয়ারলিডার প্রায় ১২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন। এর সঙ্গে থাকে থাকা-খাওয়া, যাতায়াতসহ অন্যান্য সুবিধা। তবে এটি পুরোপুরি চুক্তিভিত্তিক কাজ, প্রতি মরসুমে নতুন করে নিয়োগ হয়, ফলে স্থায়ীত্বের কোনও নিশ্চয়তা নেই।
চিয়ারলিডিংয়ের ইতিহাসও বেশ পুরনো। এর সূত্রপাত আমেরিকায়, ১৮৯৮ সালে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরুতে এটি ছিল মূলত পুরুষদের ভূমিকা, যারা দলের সমর্থনে স্লোগান দিতেন। পরবর্তীকালে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে এটি নৃত্য, জিমন্যাস্টিকস ও বিনোদনের এক পেশাদার শিল্পে পরিণত হয়। ১৯৬০-৭০-এর দশকে মার্কিন ক্রীড়া লিগগুলো এই ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলে।
ভারতে এই সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয় ২০০৮ সালে আইপিএলের সূচনার পর, যেখানে ক্রিকেটকে শুধু খেলা নয়, বিনোদনের প্যাকেজ হিসেবেও তুলে ধরা হয়।