Cibil Score Boosting Tricks: ৬ মাসেই সিবিল স্কোর ৭৫০ পার! জেনে নিন ক্রেডিট প্রোফাইল বদলানোর ‘ম্যাজিক’ ট্রিকশ

Cibil Score: কয়েকটা ইএমআই (EMI) মিস হওয়ার কারণে বা ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে স্কোর কমে গিয়ে থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। খারাপ ক্রেডিট স্কোর মানেই সব শেষ নয়।

Advertisement
৬ মাসেই সিবিল স্কোর ৭৫০ পার! জেনে নিন ক্রেডিট প্রোফাইল বদলানোর ‘ম্যাজিক’ ট্রিকশ   সিবিল স্কোর

হোম লোন নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? ব্যবসার জন্য মূলধন চাই? কিংবা নিছকই পুরনো ক্রেডিট কার্ডটি আপগ্রেড করতে চাইছেন? এসব ক্ষেত্রে একটি 'ম্যাজিক ফিগার' সম্পর্কে আপনার ওয়াকিবহাল থাকা অত্যন্ত জরুরি— আর তা হল ৭৫০।

সিবিল স্কোর (CIBIL Score) ৭৫০ বা তার বেশি হওয়া মানে অর্থনৈতিক দুনিয়ায় একটি 'ভিআইপি পাস' পেয়ে যাওয়া। ব্যাঙ্ক বা ঋণদানকারী সংস্থাগুলির চোখে আপনি তখন 'লো-রিস্ক' বা কম ঝুঁকির গ্রাহক। ফলে সবচেয়ে কম সুদের হারে এবং দ্রুত ঋণ পাওয়া আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। উল্টো দিকে, স্কোর ৬৮৫-এর নীচে থাকলে ঋণ বাতিল হওয়ার বা চড়া সুদ চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

কয়েকটা ইএমআই (EMI) মিস হওয়ার কারণে বা ক্রেডিট কার্ডের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে স্কোর কমে গিয়ে থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। খারাপ ক্রেডিট স্কোর মানেই সব শেষ নয়। কড়া আর্থিক নিয়মানুবর্তিতা মেনে চললে আগামী ৬ মাসের মধ্যেই আপনি নিজের ক্রেডিট প্রোফাইল একেবারে বদলে ফেলতে পারেন। আর এর ইতিবাচক ফল দেখতে পাবেন মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই।

 

bank loan

সিবিল স্কোর ৭৫০ পার করার ট্রিকশ   

১. পেমেন্ট হোক সময় মতো: বকেয়া মেটানোয় জোর দিন

আপনার পেমেন্ট হিস্ট্রি বা ঋণ শোধ করার অতীত রেকর্ডের ওপর নির্ভর করে সিবিল স্কোরের প্রায় ৩৫ শতাংশ। একটি মাত্র ইএমআই বা ক্রেডিট কার্ডের বিল দিতে দেরি হলে তা আপনার স্কোরে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

অটো-ডেবিট চালু করুন: নিজের স্মৃতির ওপর ভরসা না করে ইএমআই-এর জন্য ব্যাঙ্কে ‘অটো-ডেবিট’ নির্দেশ দিয়ে রাখুন। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রেও প্রতি মাসে শুধুমাত্র ‘মিনিমাম ডিউ’ নয়, পুরো বিল মেটানোর চেষ্টা করুন।

বিদ্যমান ঋণ শোধ করুন: একাধিক কার্ড বা ঋণের বকেয়া থাকলে তা দ্রুত মেটানোর ব্যবস্থা করুন। সবচেয়ে বেশি সুদের ঋণটি আগে মেটান। বকেয়া কমিয়ে আনতে পারলে ঋণদানকারী সংস্থাগুলির কাছে আপনার আর্থিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক বার্তা পৌঁছয়।

Advertisement

আগামী দু'টি ত্রৈমাসিকে কোনো অবস্থাতেই যেন পেমেন্ট মিস না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখুন। এই ধারাবাহিকতাই আপনার স্কোর বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেবে।

 

Cibil Score

২. ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন রেশিও (CUR) নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অনেকেই অজান্তে এই জায়গায় ভুল করে ফেলেন। আপনার কার্ডের মোট লিমিটের কত শতাংশ আপনি ব্যবহার করছেন, তাকেই বলে সিইউআর (CUR)। ধরুন, আপনার কার্ডের লিমিট ১ লক্ষ টাকা এবং আপনি মাসে ৭০,০০০ টাকা খরচ করেন। এক্ষেত্রে আপনার সিইউআর ৭০%। এর অর্থ হল, আপনি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল।

৩০ শতাংশের নিয়ম: সমস্ত কার্ড মিলিয়ে আপনার খরচ যেন কোনও ভাবেই মোট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি না হয়।

লিমিট বাড়ানোর কৌশল: আপনি যদি নিয়মিত ৩০ শতাংশের কোটা ছুঁয়ে ফেলেন, তবে শুধু খরচ কমানোই যথেষ্ট নয়। ব্যাঙ্কে ফোন করে ক্রেডিট লিমিট বাড়ানোর অনুরোধ করুন। ব্যাঙ্ক লিমিট বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করে দিলে, ওই একই ৭০,০০০ টাকা খরচে আপনার সিইউআর কমে দাঁড়াবে ৩৫ শতাংশে। এই সামান্য পদক্ষেপেই আপনার সিবিল স্কোর এক বা দুই বিলিং সাইকেলের মধ্যে বেশ খানিকটা বেড়ে যাবে।

৩. পুরনো ক্রেডিট হিস্ট্রি সুরক্ষিত রাখুন

ক্রেডিট কার্ডের দুনিয়ায় পুরনো চাল ভাতে বাড়ে। আপনার ক্রেডিট হিস্ট্রি যত পুরনো হবে, ব্যাঙ্ক আপনার ওপর তত বেশি ভরসা করবে।

পুরনো কার্ড বাতিল নয়: নতুন বা প্রিমিয়াম কার্ড হাতে পেলেই আমরা অনেক সময় পুরনো কার্ডটি বন্ধ করে দিই। এই ভুল করবেন না। পুরনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার অর্থ হল আপনার দীর্ঘদিনের ভালো পেমেন্ট রেকর্ড মুছে ফেলা। পাশাপাশি, এতে আপনার মোট ক্রেডিট লিমিট কমে যায়, যা সিইউআর বাড়িয়ে দেয়। পুরনো কার্ডটি চালু রাখতে মাসে অন্তত একবার ছোটখাটো কেনাকাটা বা বিল পেমেন্ট করুন এবং সঙ্গে সঙ্গে তা মিটিয়ে দিন।

ঘন ঘন ঋণের খোঁজ নয়: প্রতিবার ঋণ বা নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় ব্যাঙ্ক আপনার ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করে, যাকে বলা হয় ‘হার্ড ইনকোয়ারি’ (Hard inquiry)। অল্প সময়ের মধ্যে বারবার এই ধরনের অনুসন্ধান হলে ব্যাঙ্ক মনে করে আপনি ঋণের জন্য মরিয়া। এতে সিবিল স্কোর দ্রুত কমে যায়। ইন্টারনেটে সাধারণ ভাবে তুলনা করে দেখুন, কিন্তু একেবারে নিশ্চিত হওয়ার পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করুন। কয়েক মাসের ব্যবধানে এক বা দু'টির বেশি আবেদন না করাই ভালো।

৪. ভুলত্রুটি যাচাই ও সংশোধন

কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, সিবিল কর্তৃপক্ষও নয়। অনেক সময় দেখা যায়, আপনার স্কোর কম হওয়ার পিছনে আপনার কোনও দায়ই নেই! ভুলবশত তিন বছর আগে শোধ হয়ে যাওয়া ঋণ এখনও 'অ্যাক্টিভ' দেখাচ্ছে অথবা আপনার নামে কোনও ভুয়ো লেট ফি যুক্ত হয়ে আছে।

রিপোর্ট খতিয়ে দেখুন: অনলাইনে আপনার বিনামূল্যের ক্রেডিট রিপোর্টটি ডাউনলোড করুন এবং প্রতিটি লেনদেন খুঁটিয়ে দেখুন।

অভিযোগ জানান: কোনও ভুল চোখে পড়লে সরাসরি সিবিল-এর কাছে 'ডিসপুট' (Dispute) বা অভিযোগ দায়ের করুন। এই ভুল সংশোধন হতে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগে। তাই ৬ মাসের পরিকল্পনার শুরুতেই এই কাজটি সেরে রাখুন।

বিকল্প পথ: সিকিওর্ড ক্রেডিট কার্ড

যাঁদের ক্রেডিট স্কোর তলানিতে এসে ঠেকেছে বা যাঁরা ক্রেডিট সিস্টেমে একেবারে নতুন, তাঁরা প্রায়ই এক অদ্ভুত সমস্যার মুখে পড়েন— স্কোর বাড়াতে গেলে ঋণ দরকার, কিন্তু স্কোর নেই বলে ব্যাঙ্ক ঋণ দিতে চায় না!

এর সবচেয়ে সহজ সমাধান হল 'সিকিওর্ড ক্রেডিট কার্ড' (Secured Credit Card)। ব্যাঙ্কে একটি ফিক্সড ডিপোজিট (FD) খুললে তার বিনিময়ে ব্যাঙ্ক আপনাকে একটি ক্রেডিট কার্ড দেবে, যার লিমিট হবে ওই আমানতের ৮০-৯০ শতাংশ। যেহেতু আপনার আমানত এই কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাই এই কার্ড পাওয়া অত্যন্ত সহজ। ছোট কেনাকাটায় এটি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করুন, সময় মতো বিল মেটান, আর নিজের চোখেই দেখুন কীভাবে আপনার সিবিল স্কোর তরতর করে বাড়ছে।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement