টাকা জমিয়ে কি কোটিপতি হওয়া যায়? দেখুনHow To Build 80 Lakh Retirement Fund: চাকরিজীবীদের ভবিষ্যৎ মানেই প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ। কিন্তু সাধারণ নিয়মে টাকা জমিয়ে কি আর বড়লোক হওয়া যায়? হিসেব বলছে, একটু বুদ্ধি খাটালে তিন দশক পর আপনার হাতে আসতে পারে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার বিশাল তহবিল। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৭ কোটি গ্রাহক ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ পাচ্ছেন। কিন্তু শুধু বাধ্যতামূলক দানে সন্তুষ্ট না থেকে নিজের অবদানের অঙ্কটা একটু বাড়ালেই কেল্লাফতে!
ভিপিএফ-এর ম্যাজিক
সাধারণত সরকারি বা বেসরকারি দফতরের কর্মীরা তাঁদের মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার ১২ শতাংশ টাকা ইপিএফ-এ জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাও সমপরিমাণ টাকা দেন, যার ৩.৬৭ শতাংশ ঢোকে আপনার মূল অ্যাকাউন্টে এবং ৮.৩৩ শতাংশ যায় পেনশনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আপনি মাসে মাত্র ১,২০০ টাকা জমা করেন, তবে আজই তা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করার কথা ভাবুন। ভাবছেন কী করে? উত্তর হলো, ভলান্টারি প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভিপিএফ। এটি আলাদা কিছু নয়, আপনার বর্তমান অ্যাকাউন্টেরই একটি বর্ধিত অংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখানেও সেই ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ মিলবে। সুবিধা হলো, এতে একদিকে যেমন করছাড় পাওয়া যায়, তেমনই মেয়াদ শেষে পুরো টাকাটাই করমুক্ত থাকে।
হিসেবটা বুঝে নিন
পুরো বিষয়টাই নির্ভর করছে চক্রবৃদ্ধি হারের জাদুর ওপর। ধরুন, আপনি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে জমা করছেন। যদি টানা ৩০ বছর এই টাকা না তোলেন, তবে চক্রবৃদ্ধি হারে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকায়। কিন্তু ধৈর্য না ধরলে লোকসান আপনারই। যদি প্রতি ১০ বছর অন্তর টাকা তুলে আবার নতুন করে শুরু করেন, তবে ৩০ বছর শেষে আপনার ঝোলায় থাকবে বড়জোর ২৮ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, বারবার টাকা তুললে বিনিয়োগের ‘ভিত্তি’ ছোট হয়ে যায়, ফলে সুদের অংকটাও কমে আসে।
তাই মাঝপথে টাকা না তুলে ‘স্লো অ্যান্ড স্টেডি’ নীতিতে চললে আপনার অবসর জীবন হবে রাজকীয়। সবটাই নির্ভর করছে আপনার ধৈর্যের ওপর। আজ থেকেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা বদলে ৮০ লক্ষের লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন।