Best SIP: সেরা এসআইপি চিনবেন কী করে? ৫ গোল্ডেন টিপ মানলেই আপনি কোটিপতি

SIP Mutual Fund: এসআইপি-র অন্যতম বড় সুবিধা হল 'কম্পাউন্ডিং' বা চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদু । অর্থাৎ, বাজার যখন সস্তা থাকে তখন বেশি ইউনিট এবং বাজার যখন চড়া থাকে তখন কম ইউনিট কেনা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের গড় খরচ কমিয়ে আনে।

Advertisement
সেরা এসআইপি চিনবেন কী করে? ৫ গোল্ডেন টিপ মানলেই আপনি কোটিপতি   প্রতীকী ছবি

আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী পুঁজি গঠনে আধুনিক প্রজন্মের বিনিয়োগকারীদের অন্যতম প্রধান পছন্দ সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি (SIP)। নিয়ম বজায় রেখে প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক বিনিয়োগের এই অভ্যাস বাজারের ওঠানামার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েই যেখানে বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব, সেখানে তরুণ চাকুরিজীবী থেকে ব্যবসায়ী— সকলের কাছেই এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

এসআইপি-র অন্যতম বড় সুবিধা হল 'কম্পাউন্ডিং' বা চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদু । অর্থাৎ, বাজার যখন সস্তা থাকে তখন বেশি ইউনিট এবং বাজার যখন চড়া থাকে তখন কম ইউনিট কেনা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের গড় খরচ কমিয়ে আনে।

তবে বাজারে এখন অজস্র মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম রয়েছে। তার মধ্যে থেকে নিজের জন্য ঠিক কোনটি সেরা, তা বেছে নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। ভুল জায়গায় টাকা রাখলে লাভের চেয়ে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি থাকে। বিনিয়োগের বাজার থেকে সেরা রিটার্ন ঘরে তুলতে কোন ৫টি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি? জেনে নিন সবিস্তারে... 

১. বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য স্পষ্ট রাখুন

অধিকাংশ মানুষ শুধুমাত্র কর বাঁচানো (Tax Saving) বা হাতে কিছু বাড়তি টাকা জমে রয়েছে বলেই মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে বসেন। কিন্তু, লক্ষ্যহীন বিনিয়োগে সঠিক রিটার্ন পাওয়া কঠিন। এসআইপি শুরু করার আগে আপনার লক্ষ্য স্থির করুন। এটি স্বল্পমেয়াদী (যেমন গাড়ি কেনা বা ঘুরতে যাওয়া) নাকি দীর্ঘমেয়াদী (যেমন সন্তানের উচ্চশিক্ষা বা অবসরের পর জীবনযাপন)? আপনার লক্ষ্য এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার (Risk Appetite) ওপর ভিত্তি করেই ঠিক হবে আপনি কোন তহবিলে টাকা রাখবেন।

২. সঠিক ফান্ডের ধরন বা ক্যাটাগরি বাছুন

মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারে বিভিন্ন ধরনের স্কিম রয়েছে। আপনার লক্ষ্য ও ঝুঁকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে:

ইক্যুইটি বা অ্যাসেট বেসড ফান্ড: এখানে মূলত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে লার্জ-ক্যাপ, মিড-ক্যাপ, স্মল-ক্যাপ, সেক্টরাল বা ইনডেক্স ফান্ড। ঝুঁকি বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্নের সুযোগ এখানেই থাকে।

Advertisement

ডেবট ফান্ড (Debt Funds): সরকারি সিকিউরিটি, বন্ড বা কর্পোরেট ডিবেঞ্চারে এই টাকা খাটানো হয়। যাঁরা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে স্থায়ী ও নিরাপদ আয় চান, তাঁদের জন্য এটি উপযুক্ত।

ব্যালেন্সড বা হাইব্রিড ফান্ড: এটি ইক্যুইটি এবং ডেবট— দুয়েরই এক চমৎকার মিশ্রণ। মাঝারি ধরনের ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুকদের জন্য এটি আদর্শ।

স্ট্রাকচারড ফান্ড: এর মধ্যে রয়েছে ওপেন-এন্ডেড (যখন খুশি ঢোকা বা বেরোনো যায়) এবং ক্লোজ-এন্ডেড ফান্ড (নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য টাকা লকড হয়ে থাকে)।

৩. তহবিলের পারফরম্যান্স যাচাই করুন

একটি ফান্ড অতীতে কেমন পারফর্ম করেছে, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। তবে শুধু ১ বা ২ বছরের রিটার্ন দেখলে চলবে না; অন্তত বিগত ৫ থেকে ১০ বছরের ট্র্যাক রেকর্ড ও ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করুন। বাজার যখন মন্দার মধ্য দিয়ে গেছে, তখনও সেই ফান্ড ধস সামলে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে (Market Volatility), তা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

৪. ফান্ড হাউসের বা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (AMC) ইতিহাস

একটি ভালো স্কিম বেছে নেওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হল সঠিক ফান্ড হাউস বা এএমসি নির্বাচন করা। সেই সংস্থার বাজারে সুনাম কেমন, তাদের বিনিয়োগের কৌশল কতটা স্বচ্ছ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের অভিজ্ঞতা কেমন, তা জেনে নেওয়া দরকার। একটি দক্ষ ও দূরদর্শী ফান্ড হাউস বাজারের কঠিন পরিস্থিতিতেও আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত রেখে ভালো রিটার্ন এনে দিতে পারে, যেখানে ভুল সিদ্ধান্ত ডেকে আনতে পারে বড় আর্থিক ক্ষতি।

৫. এক্সপেন্স রেশিও ও এগজিট লোডের দিকে নজর দিন

মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার জন্য সংস্থাগুলি বিনিয়োগকারীদের থেকে একটি বার্ষিক ফি নেয়, যাকে বলা হয় 'এক্সপেন্স রেশিও' (Expense Ratio)। যে ফান্ডের এক্সপেন্স রেশিও যত কম, দীর্ঘমেয়াদে আপনার লাভের অঙ্ক তত বেশি হবে। সামান্য শতাংশের তফাতও ১০-১৫ বছর পর একটি বড় অঙ্কের তারতম্য তৈরি করে। এর পাশাপাশি দেখে নিন 'এগজিট লোড' (Exit Load) কত। মেয়াদ শেষের আগে টাকা তুলে নিলে এই মাশুল দিতে হয়। তাই কম এক্সপেন্স রেশিও এবং ন্যূনতম এগজিট লোড যুক্ত ফান্ড বাছলে পকেটে রিটার্ন আসবে অনেক বেশি।

অনেকে ফান্ডের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) দেখে সস্তা না দামি বিচার করেন, যা আসলে সঠিক পদ্ধতি নয়। এসআইপি-র ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতাই শেষ কথা। উপরোক্ত ৫টি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে নিজের পোর্টফোলিও সাজাতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সহজ হবে।


 

POST A COMMENT
Advertisement