কোন বয়সে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, তাই নিয়ে জেনে নেওয়া যাক। Money Saving Tips by Age: ২৫ থেকে ৩৫ বছর এবং ৩৬ থেকে ৫০ বছর। এই দুই বয়সপর্বেই মানুষ কর্মজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। এই সময়ে আয় করাটাই জীবনের অন্যতম অংশ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু, শুধু আয় করলেই হবে না। সেটা অল্প অল্প করে জমাতে ও বাড়াতে হবে। বয়সের সঙ্গে তাই টাকার একটা সম্পর্ক রয়েছে। একদিকে কেরিয়ার গড়ার সময়, অন্যদিকে দায়িত্ব সামলানোর চাপ। ফলে টাকা জমানোর কৌশল সব বয়সেই এক রকম হলে চলবে না। কোন বয়সে কীভাবে সঞ্চয় করবেন, সেটা আগে থেকে ঠিক না করলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়ার আশঙ্ক থাকে। বয়সের ভিত্তিতে আর্থিক পরিকল্পনা করাই তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এটুকু করলেই স্থির আর নিশ্চিন্ত ভবিষ্যত পাবেন। bangla.aajtak.in এর প্রতিবেদনে সেই বিষয়েই জানতে পারবেন। কোন বয়সে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, তাই নিয়ে জেনে নেওয়া যাক।
২৫ থেকে ৩৫ বছর: সঞ্চয়ের ভিত গড়ার সময়
এই বয়সেই সাধারণত সবার চাকরি বা ব্যবসা শুরু হয়। ফার্ট ফেজ। এই সময়ে আয় সীমিত থাকে। তবে আপনার সামনে গোটা জীবনটা পড়ে। তাই সময়ই সবচেয় বড় সম্পদ। ফলে ছোট অঙ্ক হলেও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলাটাই এই বয়সে সবচেয়ে জরুরি। 'এই তো জীবন, মস্তি করো' অ্যাটিটিউট নিয়ে চললে ভুগতে হবে। এনজয় করুন, তবে আয়ের একটি অংশ সরিয়ে রাখা মাস্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সে আয়ের অন্তত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত। আরও বেশি করতে পারলে ভাল। যাঁদের এই বয়সে বাবা/মা-ই সংসার চালান, তাঁরা এখনই যতট পারুন জমিয়ে ফেলুন। উদাহরণস্বরূপ, বছরে ৩ লক্ষ টাকা আয় হলে অন্তত ৬০ হাজার টাকা জমান। সঞ্চয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় জানতে এই প্রতিবেদনটিতে ক্লিক করুন (CLICK HERE: কম বেতনেও টাকা জমাবেন কীভাবে? রইল সহজ টিপস)।
প্রথমেই একটি ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করা দরকার। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়া, অসুস্থতা বা অন্য কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে অন্তত ৬ মাসের খরচ যেন হাতে থাকে।
এর পর বিনিয়োগ। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থাকলে ইক্যুইটি বেসড বিনিয়োগের দিকে ঝোঁকা যেতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ডে SIP করতে পারেন। তবে এর আগে ভাল করে পড়াশোনা করুন। বন্ধুবান্ধবের কথায় বা বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে যা-তা বিনিয়োগ করবেন না। পাশাপাশি পিপিএফ বা ইপিএফের মতো নিরাপদ সঞ্চয় মাধ্যমেও নিয়মিত টাকা রাখ দরকার। সঞ্চয়ের বেশিরভাগটা পিপিএফ বা এফডি-তেই রাখুন।
এই বয়সে জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমা নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম বয়সে প্রিমিয়াম কম হয়, আর ভবিষ্যতের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
৩৬ থেকে ৫০ বছর: সঞ্চয়ই আপনার সব
এই বয়সে আয় সাধারণত বাড়ে। তবে সঙ্গে বাড়ে দায়িত্বও। সংসার, সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি বা গাড়ির ঋণ; সব মিলিয়ে খরচের চাপ বাড়তেই থাকে। তাই এখানে সঞ্চয়ের অবকাশ খুব বেশি থাকে না। আগের যে সঞ্চয় করেছেন সেটা রাখতে হবে। সঙ্গে অল্প অল্প করে তাতে ফান্ড যোগ করতে থাকুন।
এই বয়সে ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা কমানো দরকার। ইক্যুইটির পাশাপাশি ডেট ফান্ড, ফিক্সড ডিপোজ়িট, পিপিএফের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে জোর দিন। সন্তানের উচ্চশিক্ষা বা বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান থাকলে এখন থেকেই শুরু করে দিন।
অবসরের পরিকল্পনাও এই সময় থেকেই শুরু করতে হবে। NSC, PPF, FD র মতো প্ল্যানে টাকা রাখতে শুরু করুন। রিটায়ারমেন্টের সময় যেন আপনার হাতে মোটা টাকা থাকে। এটা আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে।
পড়তে ক্লিক করুন: NSC: ২ লাখ ইনভেস্ট করেই ৯০ হাজার প্রফিট! Post Office এর ধামাকা স্কিম
এই বয়সে হুটহাট Loan নেবেন না। চড়া সুদের পার্সোনাল লোন বা ক্রেডিট কার্ডের ফাঁদে পড়বেন না।
অর্থাৎ, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। আর ৩৬ থেকে ৫০ বছর বয়সে সেই সঞ্চয়কে সঠিকভাবে বাড়াতে থাকতে হবে। এই দু'টিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে বয়স অনুযায়ী প্ল্যানিং করলেই আপনার ও পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বজায় থাকবে।