How To Sharpen Scissor: ভোঁতা কাঁচি ধারালো করুন ঘরোয়া উপায়ে, এক টাকাও খরচ হবে নাসংসারের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে সেলাইয়ের ঘর অথবা রান্নাঘর, সব জায়গাতেই কাঁচি একটি অত্যন্ত দরকারী জিনিস, কিন্তু দিনের পর দিন একটানা ব্যবহারের ফলে সাধের কাঁচিটির ধার কমে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, ভোঁতা কাঁচি দিয়ে কাপড় কাটা বা রান্নাঘরের প্যাকেট কাটতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয় গৃহিনীদের, তখন অনেকেই ভাবেন বাজারে গিয়ে ধার করিয়ে আনবেন, তবে ব্যস্ততার যুগে সেই সময় কারোর থাকে না, অথচ বাড়িতে থাকা সামান্য কিছু চেনা জিনিস দিয়েই মাত্র কয়েক মিনিটে কাঁচিকে নতুনের মতো ঝকঝকে ও ধারালো করে তোলা সম্ভব।
রান্নাঘরের একটি সহজ অথচ অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান হলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, যা ব্যবহার করে নিমেষেই কাঁচির ধার ফিরিয়ে আনা যায়, প্রথমে একটি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপার নিয়ে সেটিকে কয়েকবার ভাঁজ করে একটি পুরু স্তর তৈরি করে নিতে হবে, এরপর ভোঁতা হয়ে যাওয়া কাঁচিটি দিয়ে ওই ভাঁজ করা ফয়েল পেপারটিকে সরু সরু স্ট্রিপ বা টুকরো করে বারবার কাটতে হবে, অন্তত সাত থেকে আটবার এইভাবে কাটলে ফয়েলের ঘর্ষণে কাঁচির ব্লেডগুলি আবার আগের মতো ধারালো হয়ে ওঠে।
কাঁচি ধার করার আরও একটি চমৎকার এবং সস্তা উপায় হলো ঘরে থাকা সাধারণ স্যান্ডপেপার বা শির কাগজ, বাজারে খুব কম দামেই এই শির কাগজ কিনতে পাওয়া যায়, কাঁচি ধারালো করার জন্য স্যান্ডপেপারের রুক্ষ দিকটি ওপরের দিকে রেখে কাঁচি দিয়ে তা ছোট ছোট টুকরো করে কাটতে হবে, শির কাগজের রুক্ষ কণাগুলির সঙ্গে কাঁচির ব্লেডের অনবরত ঘর্ষণের ফলে ব্লেডের ওপরে জমে থাকা মরচে বা ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কাঁচির ধার এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যায়।
আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই রান্নার কাজে বা খাওয়ার টেবিলে নুনের ব্যবহার অপরিহার্য, কিন্তু এই নুন যে কাঁচির ধার বাড়াতেও ওস্তাদ তা অনেকেই জানেন না, এই পদ্ধতির জন্য একটি কাঁচের ছোট বয়াম বা জারে কিছুটা পরিমাণ চওড়া দানার নুন ভর্তি করতে হবে, এরপর কাঁচির ব্লেড দুটি খুলে ওই নুনের জারের ভেতর ঢুকিয়ে কাটার মতো করে বারবার চালাতে হবে, নুনের দানার সঙ্গে কাঁচির ব্লেডের ঘষা লাগলে ব্লেডটি নিমেষের মধ্যে ধারালো স্ক্র্যাপার হিসেবে কাজ করতে শুরু করে।
বাড়িতে যদি খালি কাঁচের বোতল থাকে তবে তা ফেলে না দিয়ে কাঁচির ধার বাড়ানোর কাজে লাগাতে পারেন, এই টোটকাটি প্রয়োগ করার জন্য প্রথমে একটি খালি কাঁচের বোতল বা কাঁচের জার নিতে হবে, এরপর কাঁচির দুটি ব্লেড বোতলের মুখের অংশে এমনভাবে রাখতে হবে যেন আপনি বোতলের গলাটি কাটার চেষ্টা করছেন, হালকা চাপ দিয়ে কাঁচিটি বোতলের গায়ে বারবার ঘষতে থাকলে কাঁচের মসৃণ ও শক্ত উপাদানের সংস্পর্শে এসে ব্লেডের ধারালো ভাব আবার ফিরে আসে।
দর্জিদের ঘরে সেলাইয়ের কাজে ব্যবহৃত সাধারণ সেফটি পিন বা সুই দিয়েও কিন্তু কাঁচির ধার বাড়িয়ে নেওয়া যায়, একটি বড় সাইজের মেটাল সেফটি পিন নিয়ে কাঁচির দুটি ব্লেডের মাঝখানে রাখতে হবে, এরপর ঠিক যেভাবে কাপড় কাটা হয় ঠিক সেই ভঙ্গিতে সেফটি পিনটির ওপর কাঁচিটি বারবার চালাতে হবে, পিনের ধাতব অংশের সঙ্গে ব্লেডের ঘর্ষণে কাঁচির ভেতরের ভোঁতা ভাব কেটে যায় এবং কাঁচিটি আবার নতুনের মতো সচল হয়ে ওঠে।
তবে শুধু ধার করাই শেষ কথা নয় কাঁচি যাতে দীর্ঘদিন ভালো থাকে তার জন্য কিছু বাড়তি সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন, কাঁচি ব্যবহারের পর সবসময় শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে রাখা উচিত যাতে জল লেগে মরচে না পড়ে, ব্লেডগুলির সংযোগস্থলে বা স্ক্রু এর মুখে মাঝে মাঝে দু এক ফোঁটা নারকেল তেল বা সেলাই মেশিনের তেল দিলে কাঁচি অনেক হালকা হয় এবং জং ধরার হাত থেকে রক্ষা পায়।
বাজারের পিছনে বাড়তি টাকা খরচ না করে কিংবা কাঁচিওয়ালাদের জন্য অপেক্ষা না করে এই সহজ ঘরোয়া টোটকাগুলি ব্যবহার করলে সংসারের সময় ও অর্থ দুইই বাঁচবে, যেকোনো সাধারণ ভোঁতা কাঁচি যা বাতিল করার কথা ভাবছিলেন তা এই ঘরোয়া উপায়ে আবার ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে, আধুনিক গৃহস্থালির এই স্মার্ট টিপসগুলি প্রয়োগ করলে কাঁচির আয়ু যেমন বাড়বে তেমনই দৈনন্দিন কাজও হবে অনেক দ্রুত ও মসৃণ।