ভাইরাল টেকনিক।-ফাইল ছবিএকটি স্প্লিট এসি দিয়ে কি সত্যিই দু'টি ঘর ঠান্ডা করা সম্ভব? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে এই প্রশ্নই এখন নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার বিষয়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি সাধারণ দেশি কৌশল ব্যবহার করে এক ঘরের এসির ঠান্ডা বাতাস অন্য ঘরেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতি আদৌ কতটা কার্যকর এবং এর কোনও অসুবিধা রয়েছে কি না, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, স্প্লিট এসির ইনডোর ইউনিটের সামনে একটি পিভিসি পাইপ বসানো হয়েছে। সেই পাইপটি দেওয়ালে একটি ছিদ্র করে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে এসি থেকে বেরিয়ে আসা ঠান্ডা বাতাসের একটি অংশ পাইপের মাধ্যমে দ্বিতীয় ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে।
এই ধরনের ব্যবস্থা করতে হলে দেওয়ালে ছিদ্র করতে হয় এবং পাইপ এমনভাবে বসাতে হয় যাতে বাতাসের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত না হয়। তাই এ ধরনের কাজ অবশ্যই দক্ষ কারিগরের মাধ্যমে করানো উচিত। এই ব্যবস্থার মূল নীতি খুবই সহজ। এসি থেকে বের হওয়া ঠান্ডা বাতাসের একটি অংশ পিভিসি পাইপের মাধ্যমে পাশের ঘরে পৌঁছে যায়। ফলে দ্বিতীয় ঘরেও কিছুটা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
তবে বাস্তবে এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একটি স্প্লিট এসি মূলত একটি নির্দিষ্ট আকারের ঘর ঠান্ডা করার জন্যই তৈরি করা হয়। ফলে একই এসি দিয়ে দু'টি ঘর ঠান্ডা করার চেষ্টা করলে প্রথম ঘরের শীতলতাও কিছুটা কমতে পারে। অন্য ঘরে ঠান্ডা বাতাস পৌঁছালেও তার তাপমাত্রা এবং বায়ুপ্রবাহ অনেকটাই কমে যায়। তাই দ্বিতীয় ঘরটি প্রথম ঘরের মতো ঠান্ডা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এর পাশাপাশি এসির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে যন্ত্রটিকে বেশি সময় ধরে চলতে হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এসির কার্যক্ষমতা এবং আয়ুও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দেশি কৌশল সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে আদর্শ সমাধান নয়। যদি নিয়মিত দু'টি ঘর ঠান্ডা করার প্রয়োজন হয়, তাহলে আলাদা এসি, মাল্টি-স্প্লিট এসি বা সঠিক ডাক্টিং ব্যবস্থা ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর এবং নিরাপদ।