এবার ভোট না দিলে কী হবে?২৩ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার ভোট। দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। আর এবারের ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। মোটের উপর সকলেই ভোট দিতে চাইছেন। প্রয়োগ করতে চাইছেন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর সেটা সত্যিই ভাল বিষয়। যে কোনও গণতন্ত্রে ভোটদানের হার বৃদ্ধি ইতিবাচক।
তবে ভোটারদের এহেন ভোটদানের ইচ্ছেকে সাদামাটা চোখে দেখলে চলবে না। কারণ, এবার ভোটারদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, যদি ছাব্বিশে ভোট না দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী সময় ভোটার তালিকায় থাকবে না নাম। আর এই ভয়ে অনেকেই বহু বছর পর এবার বুথমুখী হবেন। কেউ কেউ নিজের কাজ বন্ধ রেখে ভোটে দেবেন। এমনকী ভোটারদের একটা বড় অংশ বাইরের রাজ্য থেকেও কাজ ছেড়ে ভোট দিতে এসেছেন। তাঁদের সবাই ভোটার তালিকায় নাম রাখতে ভোট দিতে চান বলে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, সত্যিই কি এবার ভোট না দিলে নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে যাবে? নাকি এটা সম্পূর্ণ ভুয়ো খবর?
কী বলছে কমিশন?
এই বিষয়টা নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেনি কমিশন। যদিও কমিশন সূত্রে খবর, এই ধরনের কথা কখনও কোথাও বলা হয়নি। এটা একটা ভুল ধারণা।
আসলে গণতন্ত্রে প্রতিটি মানুষ ভোট দিক, এটা কমিশন চায়। কিন্তু ভোট না দিলে যে তাঁদের ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে, সেটা কখনও কোথাও বলা হয়নি। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। তাই এই ধারণা মনে রাখবেন না। বরং নির্ভয়ে ভোট দিন।
তাহলে কেন এমন ঘটনা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার বাংলায় হয়েছে SIR বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। সেই কাজটা করতে গিয়ে প্রচুর মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সেই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানাভাবে প্রচারিত হয়েছে। যার ফলে বেড়েছে সমস্যা। অনেকের মনেই ভয় ধরে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে এবার ভোট না দিলে নাম বাদ চলে যেতে পারে, এই ভয় কাজ করছে। সেটাই ছড়িয়ে পড়ছে অন্যদের মধ্যেও।
যদিও এই ভয়ের কোনও অর্থ নেই। এবার ভোট না দিলে নাম বাদ যাবে, এমন কোনও নোটিফিকেশন দেয়নি কমিশন। তাই এই ভয় মনে পুষে রাখবেন না। বরং নির্ভয়ে ভোট দিন। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুন।