অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প১ জুন থেকে পাওয়া যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার টাকা। প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন বাংলার মহিলারা। আর এই ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই খুশির হাওয়া একাংশের বঙ্গনারীর মধ্যে।
যদিও মাথায় রাখতে হবে, এই টাকা পেতে চাইলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। বিশেষত, ৩ নিয়মের ধার না ধারলে প্রতিমাসে টাকা পাবেন না। তাই আর সময় নষ্ট নয়। বরং জেনে নিন কোন ৩ নিয়ম না মানলে টাকা পাবেন না।
ডিবিটি থাকা মাস্ট
অনেকেই ডিবিটি ছাড়াই পেয়েছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। যদিও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। এক্ষেত্রে ডিবিটি থাকা মাস্ট। এখন প্রশ্ন হল, ডিবিটি কী? উত্তরে বলি, ডিবিটি হল ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার। এর মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়।
মুশকিল হল, অনেকেরই ডিবিটি করা নেই। অর্থাৎ সোজা ভাষায়, আধার কার্ডটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ‘ম্যাপ’ বা ‘সিড’ করা নেই। এটা না থাকলে সরকারি অনুদান অ্যাকাউন্টেই ঢুকবে না। তাই সবার প্রথমে এই কাজটা সেরে ফেলতে হবে।
এক্ষেত্রে NPCI-এর ওয়েবসাইটে যান। তারপর সেখানে থাকা আধার সিডিং অপশনটিতে ক্লিক করুন। এরপর আধার নম্বর টাইপ করে সিডিং অপশন ক্লিক করুন। তারপর যেই অ্যাকাউন্টে ডিবিটি করাতে চান, সেই ব্যাঙ্কটি ক্লিক করুন। তারপর অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে পুরো কাজটা সেরে নিন। তাহলেই হয়ে যাবে আধার সিডিং। এছাড়া ব্যাঙ্কে গিয়েও আপনি কাজটি করতে পারেন।
CAA তথ্য না দিলে
অনেকেরই SIR-এ নাম বাদ গিয়েছে। তাঁরা পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। যদিও যাঁরা সিএএ-তে অ্যাপ্লাই করেছেন, তাঁরা এই টাকাটা পাবেন। তাঁরা টাকাটা পেতে কোনও সমস্যা হবে ন। যদিও সিএএ-তে আবেদন করা থাকলে সেটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। তাহলেই মিলবে এই প্রকল্পের টাকা। অন্যথায় পাবেন না। একই ভাবে যাঁরা নাম বাদ যাওয়ার পর ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও সেই তথ্য উল্লেখ করুন। নইলে বিপদ বাড়বে।
এই রাজ্যের নাগরিক না হলে
মাথায় রাখতে হবে, শুধু এই রাজ্যে থাকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা মিলবে না। বরং আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তাহলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন। অন্যথায় পাবেন না। তাই এই নিয়মটাও মাথায় রাখা খুবই জরুরি।
আর একটা কথা, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীরাই এই টাকা পাবেন। তার বেশি বা কম বয়সীরা এটা পাবেন না। এর পাশাপাশি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের অধীনে কোনও স্থায়ী সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলে, কোনও পঞ্চায়েত, পৌরসভা, স্থানীয় সংস্থায় নিয়মিত বেতন বা পেনশন পেলে, এই রাজ্য সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা অশিক্ষক পদে কর্মরত হলে, এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।