পুরুলিয়ায় ১১ কিমি বাইপাস লাইনে গ্রিন সিগন্যাল রেলমন্ত্রকেরবার পুরুলিয়ায় তৈরি হচ্ছে বাইপাস লাইন। দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ও জয়চণ্ডীপাহাড়ের মধ্যে ১১ কিমি দীর্ঘ এই বাইপাস লাইন তৈরির অনুমতি দিয়েছে রেলমন্ত্রক। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৭২ কোটি টাকা। রেলের দাবি, এরফলে বাড়বে পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা, অন্যদিকে কমবে যানজট।
এই প্রকল্পের ফলে নির্দিষ্ট পথে ট্রেন চলাচলের জন্য আলাদা ব্যবস্থা তৈরি হবে এবং প্রস্তাবিত তৃতীয় লাইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যাবে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬.০৬৫টি মালগাড়ি রেক চলাচলের চাপ সামলানো সম্ভব হবে।
পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে পণ্য পরিবহণেও এই বাইপাস লাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে SAIL-এর মতো সংস্থার প্রতি বছর ২৩.৪০ মিলিয়ন টন লৌহ আকরিকের চাহিদা ও BCCL-এর প্রতিদিন ৪৫টি রেক চলাচলের সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতেও একসময় এই লাইনটি অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
স্থানীয় মানুষ ও যাত্রীদের ঠিক কী সুবিধা হবে?
আদ্রা-জয়চণ্ডীপাহাড়-সাঁকা বাইপাস চালু হলে তা ব্যাপক অর্থে যানজট কমিয়ে দেবে। বর্তমানে রাস্তা পারাপার হওয়ার কারণে বারেবারেই মালগাড়ির গতি রোধ হয় ও নানা পরিচালনাগত সমস্যা দেখা যায়। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, বাইপাস লাইন তৈরি হলে রেল পরিষেবার দক্ষতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে যানজট আরও বাড়ার সম্ভাবনা কমবে।
রেলসূত্রে দাবি, এই প্রজেক্টের কাজ সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত ৮.৮৮ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণের সুযোগ তৈরি হবে। যা এনার্জি, মিনারেল অ্যান্ড সিমেন্ট করিডরের অংশ হিসেবে শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহণে গতি আনবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহণের পরিমাণ বাড়লে তার সুফল যাতে আরও বেশি পণ্য পরিবহণের মাধ্যমে পাওয়া যায়, সেই সুযোগও তৈরি হবে। শিল্পক্ষেত্রে বাড়তে থাকা পণ্য পরিবহণের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই করিডর আরও যানজটমুক্ত মাল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলেও মনে করছে রেল।