কলকাতা থেকে NJP যাওয়ার সিক্রেট রুটের হদিশ, ভরা গরমেও টিকিট পাবেন এই ট্রেনে

কলকাতা থেকে NJP যাওয়ার টিকিটের আকাল। আর চিন্তার কারণ নেই। উত্তরবঙ্গ যাওয়ার এমন একটি সিক্রেট রুট রয়েছে, যার খবর রাখেন না বহু সাধারণ যাত্রী।

Advertisement
কলকাতা থেকে NJP যাওয়ার সিক্রেট রুটের হদিশ, ভরা গরমেও টিকিট পাবেন এই ট্রেনেকলকাতা থেকে NJP যাওয়ার সিক্রেট রুটের হদিশ
হাইলাইটস
  • কলকাতা থেকে NJP যাওয়ার টিকিটের আকাল হলেও চিন্তা নেই।
  • উত্তরবঙ্গ যাওয়ার সিক্রেট রুটের হদিশ দেখে নিন।
  • কোন ট্রেনে করে উত্তরবঙ্গে রিজার্ভেশন নিয়ে যেতে পারবেন? জেনে নিন

কলকাতা যখন তেতে উঠতে শুরু করে, তখন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গবাসীর প্রাণ আইঢাই করে ওঠে পাহাড় যাওয়ার জন্য। হাতের কাছে রয়েছে উত্তরবঙ্গ।  কিন্তু 'উঠল বাই' উত্তরবঙ্গ যাই বললেই তো আর যাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ট্রেনে করে NJP যেতে গেলে টিকিট পাওয়াই সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পুজোর আগে ও ব্যাপক গরমের মধ্যে সকলেই যখন উত্তরবঙ্গ যেতে চায়, তখন কলকাতা থেকে NJP যাওয়ার টিকিটের আকাল পড়ে। প্রায় মাস খানেক আগে থেকেই হাউসফুল হয়ে যায় ট্রেন। ফলে ইচ্ছা থাকলেও পাহাড়ে যেতে পারেন না অনেকে। 

কিন্তু ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। আসলে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার এমন একটি সিক্রেট রুট রয়েছে, যার খবর রাখেন না বহু সাধারণ যাত্রী। ফলে এই রুটে যে কোনও সময়ই এন্তার ফাঁকা সিট পাওয়া যায়। যাওয়ার মাত্র দিন সাতেক আগেও এই রুটের ট্রেনগুলিতে ফাঁকা সিট থাকে। তাহলে কোন রুটের কথা বলা হচ্ছে, কোন ট্রেনে করে উত্তরবঙ্গে রিজার্ভেশন নিয়ে যেতে পারবেন? জেনে নিন

সিক্রেট রুটের বিষয়ে জানুন

উত্তরবঙ্গ যাওয়ার বেশ কয়েকটি ট্রেন আছে হাওড়া, শিয়ালদা থেকে। ব্যাপক ভিড় হয় এই ট্রেনগুলিতে। কিন্তু সিক্রেট রুটে উত্তরবঙ্গ পৌঁছতে হলে হাওড়া বা শিয়ালদা নয়, যেতে হবে কলকাতা স্টেশন থেকে। তাও আবার ব্রেক জার্নি করে। অর্থাৎ মাঝে একটি ট্রেন বদলে উত্তরবঙ্গ পৌঁছতে হবে আপনাকে। কিন্তু সিট কনফার্ম হওয়ায় যাত্রা হবে নিশ্চিন্ত ও উদ্বেগহীন।

কোন ট্রেন ধরা যেতে পারে?

এই সিক্রেট রুটে একগুচ্ছ ট্রেন পরিষেবা রয়েছে। তবে সবচেয়ে ভালো হল রাতে কলকাতা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে পরের দিন ভোরে বারসোই পৌঁছে, সেখান থেকে পরবর্তী ট্রেন ধরে দুপুরের মধ্যেই NJP পৌঁছানো।

হাওড়া-শিয়ালদা থেকে বেশিরভাগ ট্রেনেরই যখন স্লিপার হাউসফুল, তখন এই সিক্রেট রুটের প্রায় সবকটি ট্রেনে এন্তার ফাঁকা সিট। উদাহরণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাক রাত ৮টা ৪০-এর রাধিকাপুর এক্সপ্রেসকে। 

Advertisement

১৩১৪৫ কলকাতা-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়ে রাত ৮টা বেজে ৪০ মিনিটে। প্রতিদিন চলা এই ট্রেনটি আপনাকে বারসোই পৌঁছে দেবে ভোর ৫টার সময়। মজার বিষয় হল, এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ১৭ জুনের টিকিট এখনও এই ট্রেনে পাওয়া যাচ্ছে।

NJP বা শিলিগুড়ি পৌঁছতে এরপর বারসোই থেকে ট্রেন ধরতে হবে। ভোর ৫টা ১৭-তে রয়েছে নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস। সাত দিন পরের টিকিট এখনও এই ট্রেনে ফাঁকা। এই এছাড়াও সকাল ৮টা ২৫-এ রয়েছে কামাখ্য়া ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটি যায় শিলিগুড়ি পর্যন্ত। স্লিপারে ১৭-১৮ জুনের টিকিট ওয়েটিং লিস্ট থাকলে ২২ জুনের পর থেকে সব টিকিট এখনও ফাঁকা। এছাড়াও বেলার দিকের ট্রেনেও স্লিপার ক্লাসে প্রচুর সিট আনরিজার্ভড রয়েছে। 

বারসোই থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের দূরত্ব মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার মধ্যে। ফলে সকাল ৮টা ২৫-এর ট্রেন ধরলে ১২টা ২০ নাগাদ পৌঁছে যাওয়ার কথা শিলিগুড়িতে। আবার সকাল সাড়ে ১০টার ট্রেন ধরলে দুপুর ১টায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব NJP-তে। ফলে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের টিকিট না থাকলেও আপনি ঘুরপথে চলে যেতে পারেন উত্তরবঙ্গ। মাত্র একটি ব্রেক জার্নি করেই। 

টিকিট ভাড়া কত?

ডিরেক্ট ট্রেনের সঙ্গে এই ব্রেক জার্নির তুলনা করলে ভাড়াতেও খুব বেশি হেরফের নেই। কলকাতা স্টেশন থেকে বারসোই-এর স্লিপার ক্লাসের ভাড়া রয়েছে ২৭৫ টাকা। আর বারসোই থেকে NJP পর্যন্ত ভাড়া রয়েছে ১৮০ টাকা। অর্থাৎ মোট খরচ হবে ৪৫৫ টাকা। 3AC বুকিংয়ের ক্ষেত্রে কলকাতা স্টেশন থেকে বারসোই স্টেশনের ট্রেনের টিকিটের দাম রয়েছে ৭০৫ টাকা ও বারসোই থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাওয়ার জন্য খরচ হবে ৫০৫ টাকা।

 

POST A COMMENT
Advertisement