India First Hydrogen Train: আগামী সপ্তাহেই যাত্রা শুরু দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের, কোথায় চলবে-ভাড়া কত?

দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি ট্র্যাকে চলার জন্য প্রস্তুত। আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রেনটি হরিয়ানার সোনিপত ও জিন্দ-এর মধ্যে চলবে। এটি সপ্তাহে ছয় দিন চলাচল করবে।

Advertisement
 আগামী সপ্তাহেই যাত্রা শুরু দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের, কোথায় চলবে-ভাড়া কত? জানেন এর বিশেষত্ব?

দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন আগামী সপ্তাহ থেকে  রেলপথে চলতে শুরু করবে। উত্তর রেল এর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আধিকারিকদের কী ভূমিকা পালন করতে হবে, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জিন্দ স্টেশনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ট্রেনটি জিন্দ এবং সোনিপতের মধ্যে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে এবং এর ভাড়া ৫ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে হতে পারে। এই যাত্রা এক ঘণ্টার হবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটির পরিচালনার জন্য NOC পাওয়া গেছে।

মোদী করবেন উদ্বোধন
 দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন (HMU)), যা DMU এবং  EMU-এর আদলে তৈরি, সোনিপত ও জিন্দের মধ্যে তার প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৩ বা ১৭ জুলাই ট্রেনটির উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১৭ জুলাই বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, ট্রেনটি সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে দুটি ট্রিপে চলবে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সপ্তাহে একদিন বিশ্রামে থাকবে।

কবে উদ্বোধন?
এর পরীক্ষামূলক যাত্রা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।  সূত্রমতে, এই ট্রেনটি ২০ জুলাইয়ের আগেই উদ্বোধন করা হতে পারে। এর পাশাপাশি, উত্তর রেলওয়ে তিনটি অমৃত ভারত স্টেশন উদ্বোধনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই স্টেশনগুলি হল মোদী নগর, শামলি এবং নারওয়ানা, যেগুলিকে অমৃত ভারত যোজনার অধীনে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা হয়েছে। এর উদ্বোধনের জন্য নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে, যারা সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেবেন। এছাড়া, কুরুক্ষেত্রে নির্মিত এলিভেটেড করিডোরটিও এই মাসে উদ্বোধন করা হবে।

১০ কোচের ট্রেন
দিনে মাত্র দুটি ট্রিপের কারণ হলো এর জ্বালানি ধারণক্ষমতা। হাইড্রোজেন ট্রেনটি একবার জ্বালানি ভরলে ৩৫০ থেকে ৩৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারবে। এটি সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেনের মতোই হবে। ১০টি কোচের এই ট্রেনগুলোর মধ্যে আটটি যাত্রীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে, যার যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ২,৬০০। ট্রেনটিতে আটটি ফুয়েল সেল রয়েছে। ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটারের বেশি, কিন্তু বাণিজ্যিক চলাচলের সময় এটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে চলবে।

Advertisement

এটা কোথায় চলবে?
বর্তমানে, এই ট্রেনটি শুধুমাত্র সোনিপত-জিন্দ রুটে চলাচল করবে । ভবিষ্যতে, দিল্লি ও হরিয়ানাসহ অন্যান্য রুটে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যখন ট্রেনটিকে সোনিপত থেকে দিল্লির শাকুর বস্তিতে আনা হবে, তখন এটি এর হাইড্রোজেন সিস্টেমের পরিবর্তে একটি সাধারণ ইঞ্জিনে চলবে।

পথ ও গতি কত?
এই ট্রেনটি ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে এবং ঘণ্টায় ১৪০ কিমি পর্যন্ত গতিতে পৌঁছতে পারবে, যা স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের জন্য এটিকে একটি চমৎকার বিকল্প করে তুলেছে। ট্রেনটি ১,২০০ কিলোওয়াট হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রোপালশন সিস্টেমে সজ্জিত। ডিজেল ইঞ্জিনের পরিবর্তে, এই ব্যবস্থাটি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। সেইসঙ্গে, এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই কেবল বাষ্প ও তাপ উৎপন্ন হয়। এই ট্রেনটি ভারত সরকারের পরিবেশবান্ধব এনার্জি এবং নেট-জিরো কৌশলের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।

POST A COMMENT
Advertisement