
IRCTC তাদের টিকিট বুকিং সিস্টেমে একটি বড়সড় পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তনের ফলে টিকিট বুকিংয়ের কার্যকারিতা বাড়বে এবং বুকিংয়ের সময়ও কমবে, যা ভ্রমণের সময়ে পর্যটকদের ঝঞ্ঝাট দূর করবে।
ভারতীয় রেল একটি বড় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কাজ করছে যার লক্ষ্য হল অনলাইন ট্রেনের টিকিট বুকিংকে আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা। বিশেষ করে বুকিংয়ের ব্যস্ততম সময়ে, যখন চাহিদা বেশি থাকে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের হঠাৎ ধীরগতি, অতিরিক্ত ট্র্যাফিক এবং পরিষেবা বিঘ্নের মতো সমস্যাগুলির সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত একসঙ্গে হাজার হাজার যাত্রী বুকিং করার সময়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তা মিটবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
IRCTC তার নেক্সট জেনারেশন ই-টিকিট (NGET) প্ল্যাটফর্মের পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনা করছে। এই আপগ্রেড প্ল্যাটফর্মটির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি করবে। যার ফলে এটি আগের চেয়ে প্রতি মিনিটে কয়েকগুণ বেশি টিকিট বুকিং করতে পারবে।
প্রতি মিনিটে কতগুলি বুকিং করা যাবে?
IRCTC জানিয়েছে, তাদের বর্তমান সিস্টেমের ক্ষমতা প্রতি মিনিটে প্রায় ৩৭ হাজার টিকিট পর্যন্ত পৌঁছয়। এখন সফ্টওয়্যার আপগ্রেডের পর এই ক্ষমতা প্রতি মিনিটে ১ লক্ষ টিকিট ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি তার যাত্রী সংরক্ষণ পরিকাঠামো আধুনিকীকরণে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
নতুন ব্যাকআফ সিস্টেম
IRCTC বুকিং পরিকাঠামোর যে কোনও একটি অংশ বিকল হয়ে গেলে ঝামেলা পুরোপুরি সমাধান করবে, কারণ এটি সক্রিয় দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাও চালু করেছে। সহজ কথায়, এই সিস্টেমটি দু'টি প্রজেক্ট সেটআপ দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে যা নির্বিঘ্নে পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
যদি একটি সিস্টেমে কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তবে অন্যটি ট্র্যাফিক সামলানো চালিয়ে যেতে পারে। ফলে যাত্রীদের বুকিং প্ল্যাটফর্ম থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। হাই ডিমান্ডের সময়ে যাতে ওয়েবসাইট বিকল না হয়, সেদিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সিস্টেমটিকে সরল করা হচ্ছে
IRCTC-র নতুন ওয়েবসাইট থেকে এমন অনেক উপাদান সরিয়ে ফেলা হয়েছে যা অপ্রয়োজনীয় ভাবে বুকিং প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দিত। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় ক্যাপচা কোড চেক, পপ আপ এবং চোখ ধাঁধানো গ্রাফিক্স, যার ফলে ভ্রমণকারীদের জন্য একটি সরলীকৃত ইন্টারফেস তৈরি হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, ব্যবহারকারীরা যেন কোনও প্রক্রিয়ায় আটকে না থাকে, তাদের ভ্রমণ এবং বুকিং সম্পন্ন করার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।