অরেঞ্জ লাইন নিয়ে বড় আপডেটদক্ষিণ শহরতলির মানুষ এবার মেট্রোয় চেপে চলে আসতে পারবেন সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অবধি। প্রতিক্ষার অবসান হতে চলেছে খুব শীঘ্রই। কারণ, অরেঞ্জ লাইনে মেট্রো এবার বেলেঘাটার বদলে পৌঁছে যাবে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত। জানা যাচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার দিন অরেঞ্জ লাইনের বেলেঘাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত অংশে ট্রায়াল রান শুরু হতে চলেছে। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড বা RVNL-এর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই ট্রায়ালে সফটওয়্যার অ্যালাইনমেন্ট, সিঙ্ক্রোনাইজেশন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
বাণিজ্যিক পিরষেবা কবে চালু হতে চলেছে?
বেলেঘাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ট্রায়াল রান সফল হলে এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেলে ক্রিসমাসের সময় অর্থাৎ ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই অংশে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু হতে পারে। অরেঞ্জ লাইনে ইতিমধ্যে চিংড়িঘাটা ও সুকান্তনগরের মধ্যে ৩৬৬ মিটারের ফাঁক পূরণ করা হয়েছে। গার্ডার স্থাপন, ভায়াডাক্ট নির্মাণ ও রেলপথ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর বেলেঘাটা থেকে আইটি সেন্টার পর্যন্ত অংশে পুশ-ট্রলি পরিদর্শনও সফলভাবে শেষ হয়েছে। এর ফলে ট্র্যাক এখন ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে অরেঞ্জ লাইন কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটারের বেশি অংশে চলছে। সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত চালু হলে করিডোরের দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটারের বেশি হবে। নতুন তিনটি স্টেশন যুক্ত হবে গৌর কিশোর ঘোষ, নলবান এবং সেক্টর ফাইভ। সেক্টর ফাইভে গ্রিন লাইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ফুটব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা সহজে ইন্টারচেঞ্জ করতে পারেন।
গ্রিন লাইনের সঙ্গে সংযোগ
চিংড়িহাটায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ বছরের পর বছর আটকে রেখেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। নতুন রাজ্য সরকারের অনুমতি মেলায় সেই কাজ শেষ হয় চিংড়িহাটায়। শুধু নির্মাণ কাজ নয়, লাইন বসানোর কাজ অবধি শেষ। হয়ে গেছে ট্রলি টেস্টও।
বর্তমানে বেলেঘাটা অবধি অরেঞ্জ লাইনে মেট্রো চলাচল করে। মেট্রো সূত্রে খবর ডিসেম্বর মাস থেকে মেট্রো যাবে গৌরকিশোর ঘোষ-নলবন-আইটি সেন্টার অবধি। অরেঞ্জ লাইনের আইটি সেন্টার মেট্রো স্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যে সমস্ত ব্যক্তিরা তথ্যপ্রযুক্তি তালুক বা সল্টলেকে কাজ করেন তারা এখানে সহজে আসতে পারবেন মেট্রো চেপে। আবার এই স্টেশনের সঙ্গেই সংযুক্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রিন লাইনের সেক্টর ফাইভ মেট্রো স্টেশন। আগামী দিনে যাত্রীরা এই অংশ দিয়ে সহজেই হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশন, এয়ারপোর্ট অথবা ধর্মতলা চলে যাবেন।
আরভিএনএল সূত্রে খবর, অন্তত এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলবে ট্রায়াল রান। ট্রায়াল রান সফল হলে ডিসেম্বরে চালু হয়ে যেতে পারে মেট্রো। মেট্রো সূত্রে খবর, নিউ গড়িয়া স্টেশনের পুনর্নির্মাণ শেষ হলেই সম্পূর্ণ হবে একটি জরুরি বৃত্ত । ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর থেকে আসা যাবে নিউ গড়িয়া । সেখান থেকে অরেঞ্জ লাইনে যাওয়া যাবে সেক্টর ফাইভ । সেক্টর ফাইভ থেকে গ্রিন লাইন থেকে যাওয়া যাবে শিয়ালদা, ধর্মতলা, হাওড়া । নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত অরেঞ্জ লাইন ৩১ কিমি দীর্ঘ । কিন্তু চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ আটকে থাকায় থমকে গিয়েছিল সব কিছু । যা নিয়ে জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত । সরকার বদলের পর পাল্টায় পরিস্থিতি । শুরু হয় কাজ। জানা যাচ্ছে, সেক্টর ফাইভ থেকে সিটি সেন্টার টু পর্যন্ত অংশে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষের। বিমানবন্দর পর্যন্ত এক্সটেনশন যদি ২০২৭ সালের শেষে সম্পন্ন হয় তবে পুরো করিডরের দৈর্ঘ্য হবে ৩২ কিমির বেশি। অরেঞ্জ লাইনের এই অগ্রগতি যানজট যেমন কমাবে তেমনই সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি কর্মীদের অনেক সুবিধা হবে।