
জল-কাদা-খানা-খন্দে দাপাবে KTM-এর নতুন বাইক! বছরের শেষেই লঞ্চের জল্পনা।KTM 390 SMC India: জমা জল। এবড়ো-খেবড়ো রাস্তা। কাদা। এগুলো কোনও সমস্যাই নয়। এমনই অ্যাটিটিউডের নতুন বাইক আনতে চলেছে KTM। নাম KTM 390 SMC। সুপারমোটো সেগমেন্টের বাইক। অ্যাডভেঞ্চার বাইকেরও এক কাঠি উপরে। সত্যি বলতে এটিই ভারতে প্রথম সস্তার সুপারমোটো বাইক ধরতে পারেন। নামে 390 সিসি হলেও ভারতে সম্ভবত 350 সিসি ভার্সানেই এই বাইক আসতে পারে। সৌজন্যে কেন্দ্রীয় সরকারের জিএসটি নীতি। এদেশে ৩৫০ সিসির বেশি বাইকে বাড়তি জিএসটি পড়ে। তাই দাম মধ্যবিত্তের নাগালে রাখতে ৩৫০ সিসি ইঞ্জিনেই এই বাইক আনতে পারে কেটিএম।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে 390 SMC R ইতিমধ্যেই মোটরসাইকেলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। হালকা ওজন, উঁচু রাইডিং পজ়িশন এবং দুর্দান্ত হ্যান্ডলিং। সুপারমোটো আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ জনপ্রিয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই মোটরসাইকেল ভারতেই তৈরি হয় এবং বিদেশে রফতানি করা হয়। তাই ভারতীয় বাজারে এর লঞ্চ এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ইঞ্জিন নিয়ে। আন্তর্জাতিক ভার্সানে রয়েছে ৩৯৯ সিসির LC4c ইঞ্জিন। কিন্তু ভারতীয় বাজারের জন্য KTM সম্ভবত নতুন ৩৪৯ সিসি সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করবে। এই একই ইঞ্জিন ইতিমধ্যেই Duke এবং Adventure সিরিজের নতুন মডেলগুলিতে রয়েছে। যদিও KTM এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।
ইঞ্জিনের শক্তির দিক থেকেও দুই মডেলের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকবে। নতুন ৩৫০ সিসির ইঞ্জিন থেকে প্রায় ৪১ বিএইচপি শক্তি এবং ৩৩.৫ এনএম টর্ক পাওয়া যায়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ৩৯৯ সিসির ইঞ্জিন উৎপাদন করে ৪৫.৩ বিএইচপি পাওয়ার এবং ৩৯ এনএম টর্ক। তবে শক্তি কিছুটা কমলেও বাইকের আসল সুপারমোটো ক্যারেক্টারে কোনও আপস হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মডেলের স্টাইলই থাকবে। বাইকটিতে থাকতে পারে হালকা ট্রেলিস ফ্রেম, লং-ট্রাভেল সাসপেনশন, সামনে ও পিছনে ১৭ ইঞ্চির অ্যালয় চাকা এবং তীক্ষ্ণ, আগ্রাসী স্টাইলিং। পাশাপাশি উঁচু হ্যান্ডেলবার, সোজা বসার ভঙ্গি এবং ন্যূনতম বডি প্যানেল বাইকটিকে শহরের রাস্তায় যেমন স্বচ্ছন্দ করবে, তেমনই বাঁকানো পাহাড়ি রাস্তাতেও দেবে আলাদা রাইডিং অভিজ্ঞতা।
প্রযুক্তির দিক থেকেও বাইকটি আধুনিক হতে চলেছে। সম্ভাব্য ফিচারের তালিকায় রয়েছে ফুল-কালার TFT ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, রাইড-বাই-ওয়্যার থ্রটল, সুইচেবল ডুয়াল-চ্যানেল ABS, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং একাধিক রাইডিং মোড। তবে দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ভারতীয় ভার্সানে কিছু ফিচারে পরিবর্তন আনতে পারে সংস্থা।
ভারতে এখনও সুপারমোটো মোটরসাইকেলের বাজার সেভাবে নেই বললেই চলে। অধিকাংশ ক্রেতাই স্পোর্টস বাইক, নেকেড স্ট্রিটফাইটার বা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরার বেছে নেন। কিন্তু KTM-এর নতুন SMC সেই ধারণা বদলে দিতে পারে। কম ওজন, সহজে টার্নিং, শহরে সহজে চালানোর সুবিধা এবং স্পোর্টি রাইডিং অভিজ্ঞতা; সব মিলিয়ে এই বাইক নতুন এক বায়ার সেগমেন্ট তৈরি করতে পারে।
যদিও KTM এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চের দিন ঘোষণা করেনি। তবে অটো সেগমেন্টের একাংশের মতে, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের শেষের দিকেই ভারতের বাজারে KTM 390 SMC লঞ্চ হতে পারে।