Cheapest Personal Loan Alternatives 2026: পার্সোনাল লোনের সুদ অনেক? ১-২ লাখ টাকার প্রয়োজনে কম সুদে সরকারি মুশকিল আসানCheapest Personal Loan Alternatives 2026: আপৎকালীন প্রয়োজনে হাতে টাকা নেই? মধ্যবিত্তের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লে প্রথমেই মনে আসে পার্সোনাল লোনের কথা। কিন্তু চড়া সুদের সেই ফাঁদে পা দেওয়া মানে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। যেখানে সুদের হার ১২ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সামান্য বুদ্ধি খাটালে ৯-১০ শতাংশ বা তারও কম সুদে ১-২ লাখ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব কিছু নয়।
অঙ্কের হিসেবে তাকালে দেখা যাচ্ছে, ১-২ লাখ টাকার জন্য পার্সোনাল লোন যেখানে ১৩-২১ শতাংশ সুদ দাবি করে, সেখানে গোল্ড লোন বা এলআইসি লোন অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তাই অযথা তাড়াহুড়ো করে বেসরকারি সংস্থার চড়া সুদের জালে না জড়িয়ে সরকারি সুযোগগুলো ব্যবহার করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
গোল্ড লোন
সস্তা ঋণের বাজারে সবার আগে আসবে গোল্ড লোন বা সোনা বন্ধকি ঋণের কথা। এসবিআই বা পিএনবি-র মতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোয় বর্তমানে সোনা জমা রাখলে সুদের হার থাকে মাত্র ৮.৭৫ থেকে ৯.৫০ শতাংশের আশেপাশে। আপনার কাছে সোনা থাকলে কোনো স্যালারি স্লিপ বা চড়া ক্রেডিট স্কোরের ঝামেলা ছাড়াই তাৎক্ষণিক নগদ টাকা হাতে পাওয়া সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা
যাঁদের ছোটখাটো দোকান বা ফ্রিল্যান্সিং ব্যবসা আছে, তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা। এই প্রকল্পের ‘কিশোর’ ক্যাটাগরিতে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যায় ৯ থেকে ১২ শতাংশ সুদে। সরকারি বা গ্রামীণ ব্যাঙ্ক থেকে এই লোন নিতে কোনো গ্যারান্টার বা সিকিউরিটি লাগে না, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তি।
এলআইসি-র এন্ডোমেন্ট বা মানিব্যাক পলিসি
আপনার কি এলআইসি-র এন্ডোমেন্ট বা মানিব্যাক পলিসি আছে? তবে কপাল খুলে গেল বলে! পলিসির সারেন্ডার ভ্যালুর ওপর ভিত্তি করে এলআইসি থেকে লোন নেওয়া যায় মাত্র ৯ থেকে ১০.৫ শতাংশ সরল সুদে। যদি কোনো কারণে লোন শোধ করতে নাও পারেন, তবে পলিসি ম্যাচিউর করার সময় সেই টাকা কেটে নেওয়া হয়। ফলে মাথার ওপর বাড়তি ঋণের বোঝা চাপে না।
পিএফ অ্যাকাউন্ট লোন
চাকরিজীবীদের জন্য তুরুপের তাস হলো নিজের পিএফ অ্যাকাউন্ট। চিকিৎসা, বিয়ে কিংবা বাড়ি মেরামতির মতো জরুরি প্রয়োজনে পিএফ থেকে টাকা তোলা বা অ্যাডভান্স নেওয়া যায়। যেহেতু এটি আপনারই জমানো টাকা, তাই এখানে আলাদা কোনো সুদ দেওয়ার দায় থাকে না। পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করলে খুব দ্রুতই ১-২ লাখ টাকা পাওয়া সম্ভব।
পিএম স্বনিধি প্রকল্প
তৃণমূল স্তরের হকার বা ছোট বিক্রেতাদের জন্য কেন্দ্র সরকারের পিএম স্বনিধি প্রকল্পটিও দুর্দান্ত। এখানে ধাপে ধাপে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন মেলে। অবাক করা বিষয় হলো, এই লোনে ৭ শতাংশ হারে সুদে ভর্তুকি বা সাবসিডি দেয় সরকার। ফলে কার্যকরী সুদের হার এতটাই কমে যায় যে তা পার্সোনাল লোনের তুলনায় নগণ্য।
সবশেষে পরামর্শ একটাই, আপনার যদি বাড়িতে সোনা গচ্ছিত থাকে, তবে এসবিআই গোল্ড লোনই হবে সবচেয়ে সস্তা বিকল্প। আর যদি সরকারি বা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত হন, তবে পিএফ উইথড্রয়াল বা এলআইসি লোনের কথা ভাবুন। মনে রাখবেন, পকেটের টাকা বাঁচাতে পার্সোনাল লোন যেন হয় আপনার শেষ পছন্দ।